বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করাই কি তার জীবনের অভিশাপ না কী গর্ভধারিনী মায়ের স্নেহ মমতা না পেয়ে সৎ মায়ের নির্যাতনে এমন হাল হয়েছে কিশোর তোহাব খানের (১৫)। সৎ মা তাকে উলঙ্গ করে রশি দিয়ে বেঁধে ঠাঁই করে দিয়েছে রান্নাঘরে। পুরো রান্নাঘরটি তালাবদ্ধ করে তারমধ্যে পায়ে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে প্রতিবন্ধী তোহাবকে। গৌরনদী উপজেলার রামসিদ্ধি গ্রামের বিদেশ ফেরৎ মোহন খানের পুত্র তোহাব খান জন্ম থেকেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। তোহাবের তিন বছর বয়সে তার গর্ভধারিণী মাকে তালাক দিয়ে মোহন খান দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার বাঁধেন। এরপরই সৎ মায়ের সংসারে বাড়তি বোঝা হিসাবে প্রতিবন্ধী তোহাবকে সইতে হয় নানান নির্যাতন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিকিৎসার নামে তোহাবকে বাড়ি থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে রেখে আসার জন্য মোহন খান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোহন খানের প্রতিবেশীরা জানান, ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী তোহাবের খাবারে তার সৎ মা বিষ মিশিয়ে দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে তোহাবকে বাড়তি বোঝা মনে করে দীর্ঘদিন থেকে তাদের বিল্ডিংয়ের পাশের রান্নাঘরের মধ্যে পায়ে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সম্পূর্ণ উলঙ্গ ও পায়ে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় রান্নাঘরের মেঝেতে শুয়ে আছে প্রতিবন্ধী তোহাব খান। আশ্রয় কেন্দ্রে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালানোর সত্যতা স্বীকার করে প্রতিবন্ধী কিশোর তোহাবের পিতা মোহন খান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী ( তোহাবের সৎ মা) বলেন, কোন আশ্রয় কেন্দ্রে টাকার বিনিময়েও তোহাবকে দেওয়া গেলে তারা দিতে রাজি আছেন। স্থানীয়রা প্রতিবন্ধী তোহাবকে তার সৎ মায়ের অত্যাচার থেকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইত্তেফাক/এমআই
