মাগুরায় মামলা আতঙ্কে ৩০ পরিবার বাড়ি ছাড়া

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৭, ১৭:৩৯
 
সুজন শেখ নামে এক বাস চালক খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গণ আসামি হবার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছে মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউপি'র মালিক গ্রামের ৩০ পরিবারের সদস্যরা। কোন কোন পরিবারে নারী ও শিশু সদস্যরা ছাড়া কেউ নেই। কারো কারো বাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
 
এলাকার বাসিন্দা বক্কার মোল্যা জানান, ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি। কিন্তু তাকে আট নম্বর আসামি  করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পরিবার ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বাড়িতে না থাকতে পারায় বাড়িতে থাকা নারী শিশু মিলিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবার নিরাপত্তা হীনতায় যেমন ভুগছেন তেমনি ২৮ বিঘা জমির পেঁপে, ১০ একর জমিতে পাটসহ ২০ একর জমির কৃষি খামার হুমকির মুখে পড়েছে।
 
ভুক্তভোগীরা জানান, মামলা আতঙ্কে কমপক্ষে ৩০টি পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কোন কোন বাড়িতে নারী ও শিশু সদস্যরা পর্যন্ত থাকতে পারছেন না মামলা ও হামলার ভয়ে। এলাকাবাসী খলিল মোল্যা, হারুণ মোল্যা, আনোয়ার মোল্যা জানান, পাঁচ বছরে এলাকায় চারটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব খুনের ঘটনায় এলাকার অনেক পরিবার মামলায় পড়ে সর্বস্ব খুইয়েছে।
 
বিশেষ করে ২০১৩ সালে এলাকায় একই সাথে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটে। সেই ট্রিপুল মার্ডারে উভয় পক্ষে তাদের অর্ধশতাধিক পরিবারের বাড়িঘর লুটপাট হয়। দীর্ঘ দুই বছর এই তিন খুনের মামলায় পড়া গণআসামিরা এলাকায় ফিরতে পারেনি। গত বছর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সবাই বাড়ি ফিরেছে। এর মধ্যে ৩ জুন সুজন শেখ নামে একজন বাস চালক মালিকগ্রাম বাজারে খুন হয়। এই খুনের ঘটনা ঘটে শুধুমাত্র দুইজনের বিরোধকে কেন্দ্র করে। অথচ মামলা দেয়া হয়েছে অন্যদের নামে।
 
এ ব্যাপারে মাগুরা সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা হোসেন আল মাহবুব জানান, আটজনের নামে মামলা হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এলাকাবাসীকে আমরা আশ্বস্ত করেছি যে আতঙ্ক হবার কিছু নেই।
 
ইত্তেফাক/জামান