অনগ্রসর সমাজে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির জন্য কাজ করব :প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ১২ জুন ২০১৭, ০২:৩৩

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা স্কুল অ্যান্ড কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকাল ৩টায় এই প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ ও প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। এদিকে ভারত সরকারের অর্থায়নে কমলগঞ্জে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো হলো, তিলকপুর সার্বজনীন পূজামন্দির ও মণ্ডপ এবং তিলকপুর ললিতমোহন-ধনবতী মহাশ্মশানঘাট। গতকাল কমলগঞ্জের তিলকপুর গ্রামে এ দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ভারত সরকারের অর্থায়নে ২ কোটি ৫৩ লক্ষ ৩ হাজার ৪১৬ টাকা ব্যয়ে তিলকপুর সার্বজনীন পূজামন্দির নির্মাণ এবং ৮৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ললিতমোহন-ধনবতী মহাশ্মশানঘাট নির্মাণ করা হবে।

বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমার এক আত্মীয় আমার নিজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করায় বিব্রতবোধ করছি। তবে এলাকার শিক্ষার উন্নয়নের স্বার্থে বিশেষ করে নারী, মনিপুরী, চা বাগান ও অনগ্রসর সমাজের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাবো। এই প্রতিষ্ঠানটি উন্নয়নে সকলের কাজ করা উচিত। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক হোস্টেল স্থাপনের চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, একটি মহত্ উদ্দেশ্যে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে- পশ্চাদপদ এই অঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত ও শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা। প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে হলেও এখন নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে অনুমতি দেয়া হবে এবং পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে উন্নীত হলে উচ্চমাধ্যমিকে পরিণত করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রায় ৪০টির বেশি নৃগোষ্ঠী বা জাতিসত্তা এখানে বসবাস করছে। আমরা দেশকে গড়ে তুলতে চাই আমাদের সকলের সুখ শান্তির জন্য। বিভিন্ন জাতিকে তাদের নিজের ভাষায় লেখপড়া করতে আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। সেজন্য যথা সময়ে বইপুস্তক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। সবশেষে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৮০ জন ছাত্রীর মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারত সরকারের অর্থায়নে তিলকপুর গ্রামে দুটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। বাংলাদেশে এ রকম অনেক প্রকল্পের অর্থায়ন করেছে ভারত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে একটি নতুন ঋণচুক্তি ঘোষিত হয়। এই প্রকল্পগুলো হলো বাংলাদেশের মানুষের উপকারের জন্য, যাতে তারা উপকৃত হন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সুবিধার্থে খুব দ্রুত সিলেটে একটি সহকারী হাইকমিশনার অফিস প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুজিত কুমার সিংহের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ এম এ শহীদ এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মিছবাহ উদ্দীন সিরাজ ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ কে এম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার প্রমুখ।

ইত্তেফাক/নূহু