যানজটে স্থবির ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক

আপডেট : ১২ জুন ২০১৭, ১১:৫৬
ভয়াবহ যানজটে স্থবির হয়ে পড়ছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়ক। দেড় ঘণ্টার পথ পারি দিতে সময় লাগছে ১০-১৫ ঘণ্টা। যাত্রীদের চরম ভোগান্তির পরও রমজানের প্রথম দিন থেকে ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করছে।
 
রবিবার দিবাগত রাত থেকে এ যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে। যানজটের কারণে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। যানজটের মূল কারণ তিনটি ফ্লাইওভারের কাজ, দুইটি রেল অভার ব্রিজ, ভাঙ্গাচোরা ব্রিজ, রাস্তা এবং মহাসড়ক দেখা শোনার কাজে নিয়োজিত সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ দুই কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাব। এছাড়া মহাসড়কের দুইপাশে ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলায় মহাসড়ক এখন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কারণেই মহাসড়কে তীব্র যানজট। এছাড়া প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণে চন্দ্রা এলাকায় রাজধানী ঢাকা যাওয়ার প্রবেশধার চন্দ্র-নবীনগর-ঢাকা রোড ও চন্দ্রা-গাজীপুর রোডে যানবাহন ঢুকতে না পারায় যানজটের অন্যতম কারণ বলে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ জানিয়েছেন। তবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনের কাজ পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, ভাল কিছু পেতে হলে একটু কষ্টই করতে হয়। তবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ আর বেশিদিন থাকবে না বলে তিনি দাবি করেন।
 
আজ সোমবার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা গেছে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড় থেকে মির্জাপুরের জামুর্কি পর্যন্ত পুরো সড়কই যানজটে স্থবির। এসব কারণে যাত্রীদের কোন নিরাপত্তা নেই। যানজটের ফলে এ মহাসড়কে বাড়ছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই। গত কয়েক মাস ধরেই চলছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ দুরাবস্থা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরে প্রায় ৫০ কি. মি. এলাকায় যানজট এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।টাঙ্গাইল থেকে রাজধানী ঢাকায় যেতে দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের সময় গুণতে হচ্ছে ১০-১৫ ঘণ্টা। কোন কোন ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লাগছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তীব্র যানজট থাকায় এ রোডে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
 
মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই  হাইওয়ে থানার পুলিশ ও মির্জাপুর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার বৃষ্টির পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট শুরু হয়। আস্তে আস্তে এই যানজট বাড়তে থাকে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের অফিসার ইনচার্জ মো. আতাউর রহমান জানান, রাতে মহাসড়কের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে যানজট শুরু হয়। রাত যতই গভীর হতে থাকে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ভোর রাতে মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই, ক্যাডেট কলেজ, বোর্ডঘর, কালিয়াকৈর, ও চন্দ্রা এলাকায় পর পর কয়েকটি মালবাহী ট্রাক বিকল হয়ে মহাসড়কের দুই পাশে যানজট শুরু হয়।
 
থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ খবর পেয়ে বিকল হওয়া ট্রাকগুলো সরানোর চেষ্টা করে। আবার মহাড়কের কালিয়াকৈর রেলওয়ে অভার ব্রিজের উপর ট্রাক ও বাস বিকল হয়ে পরায় যানজট আরও তীব্র হতে থাকে। এই যানজটের ফলে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে মির্জাপুরের নাটিয়াপাড়া ও ডুবাইল বাইপাস পর্যন্ত এই ৫০ কি. মি. এলাকায় তীব্র যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে যানজটে আটকে থাকা এ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী, নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের দুর্ভোগের শেষ নেই। কিছু কিছু যানবাহন কিকল্প পথ হিসেবে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোড হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের ২২টি জেলার যানবাহন এবং টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলার যানবাহন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে আসছে। যানজটে স্থবির হয়ে পরেছে পুরো মহাসড়ক। 
 
ইত্তেফাক/এমআই