যশোরে হাসপাতাল কর্মচারীকে পুলিশের মারপিট, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:২৭

যশোর জেনারেল হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে সাইকেল রাখা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে মারপিট করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের এ মারপিটের ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে হাসপাতালের কর্মচারীরা। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলাকালে হাসপাতালের সেবা কর্মক্রম বন্ধ থাকে।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘খ’ সার্কেল গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে সদর কোর্ট থেকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

হাসপাতালের প্রহরী পরিতোষ কুমার জানান, সকালে হাসপাতালের কাউন্টারের সামনে ডিউটি করছিলেন তিনি। সে সময় নারী-পুরুষ মিলিয়ে তিন শতাধিক লোক টিকিটের জন্যে লাইনে ছিল। পুলিশ কনস্টেবল বুলবুল তার স্ত্রীকে নিয়ে কাউন্টারে আসেন টিকিট কাটতে। তার সঙ্গে থাকা বাইসাইকেল রাখেন কাউন্টারের পাশে। সাইকেল সরাতে বলায় তিনি পরিতোষের ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায় হাসপাতালের স্টাফ সরোয়ার ‘কী হয়েছে’ জানতে চান। এই প্রশ্ন করার সঙ্গে সঙ্গে তার ওপরও চড়াও হন বুলবুল। এক পর্যায়ে পরিতোষের হাতে থাকা লাঠি কেড়ে নিয়ে সরোয়ারকে পেটান পুলিশ সদস্য।

কনস্টেবল বুলবুল বলেন, ‘টিকিট কাটার সময় পাশে বাইসাইকেল রাখলে আমার সঙ্গে মারাত্মক দুর্ব্যবহার করা হয়। দুইজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে আমার পোশাক থেকে শোল্ডার টেনে ছিঁড়ে ফেলে তারা। এ সময় তাদের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আমি একটা বাড়ি মেরেছি।’

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, ‘হাসপাতালে সবসময় যানজট লেগেই থাকে। সে কারণে কয়েকজন গার্ড দিয়ে রেখেছি। ইতোপূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে অভিযানও চালানো হয়েছে। আজ একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে গেল। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।’

আরও পড়ুনঃ জাতিসংঘে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘খ’ সার্কেল গোলাম রব্বানী বলেন, ‘পুলিশ সদস্য বুলবুলকে ক্লোজ করে সদর কোর্ট থেকে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু