বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে কোমর পানির নিচে বিস্তীর্ণ এলাকা

আপডেট : ১২ জুন ২০১৭, ১৮:৩৩
চট্টগ্রামে দু’দিন ধরে টানা বৃষ্টি এবং থেকে থেকে বয়ে যাওয়া অস্থায়ী দমকা হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। 
 
এদিকে নগরবাসীর দুর্ভোগ দেখতে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগ্রাবাদ এক্সেক সড়কের ব্যাপারিপাড়া অংশ পরিদর্শনে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। পরিদর্শনে গিয়ে জমে থাকা হাঁটু পানিতে নামেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন ও নাজমুল হক ডিউক। 
IMG0
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত এবং অস্থায়ী দমকা হওয়া গত রবিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে সোমবার সারাদিন অব্যাহত ছিল। সোমবার সকালে এবং রবিবার দিবাগত রাতে সামুদ্রিক জোয়ারের সময় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮টি ওয়ার্ডের অন্ততঃ ৫০টি স্পট অস্থায়ীভাবে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিরে নিচে তলিয়ে যায়। এ সব এলাকার একতলা বাড়িঘর এবং দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়লে জনগণ তীব্র ভোগান্তির মুখে পড়েন। চট্টগ্রামে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৮০ দশমিক ৫ মিলিমিটার। 
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাগর উত্তাল থাকায় লাইটারেজ জাহাজগুলোর অধিকাংশ বহির্নোঙরে যাওয়া থেকে বিরত ছিল। ফলে লাইটারিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বন্দর থেকে মাল ডেলিভারি, জেটিতে লোডিং-আনলোডিংয়ের গতিও ব্যাহত হয়। 
IMG1
চট্টগ্রাম শাহ আমানত (র.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার মো. রিয়াজুল কবির ইত্তেফাককে বলেন, এখানে বিমান উঠানামা স্বাভাবিকভাবই চলছে, তবে সকালে আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় মাস্কাট থেকে আসা একটি ফ্লাইটকে ঢাকায় ডাইভার্ট করা হয়েছে। 
 
নগরীতে দফায় দফায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে, আগ্রাবাদের কয়েকটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, চকবাজার ও আশেপাশের এলাকা, কাতালগঞ্জ, নাসিরাবাদ দুই নম্বর গেইটসহ আশেপাশের এলাকা, শোলকবহর, বাকলিয়া, খাতুনগঞ্জ-চাক্তাই এলাকা, চান্দগাঁও, হালিশহর, সবুজবাগ, শান্তিবাগ, ফইল্যাতলি, বউবাজার, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও আশেপাশের এলাকা, হামিদচর, বহদ্দারহাট ও মোহাম্মদপুর। 
 
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহানগরীর অফিস আদালত, ব্যাংকপাড়া এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় উপস্থিতি ছিলো অনেক কম। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গা রাস্তায় জমে থাকা পানিতে ডুবে দিনের বিভেন্ন সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন বিকল হয়ে গেলে কোথাও কোথাও যানজট লেগে ট্রাফিক ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে। 
IMG2
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস থেকে আবহাওয়া কর্মকর্তা শ্রীকান্ত ইত্তেফাককে বলেন, সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত এখানে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৮০ দশমিক ৫ মিলিমিটার। এর আগে আবহাওয়া কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিন জানান, দুপুর ২টা নাগাদ পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে বৃাষ্টপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৭৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার। তারা আরো জানান ভোলার কাছে সৃষ্ট মৌসুমী নিম্নচাপটি উত্তর উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গিয়ে সোমবার ভোর ৬টা নাগাদ স্থলভাগে উঠে গেছে। এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টাও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি