সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায় মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও একটি পুকুরের ইজারা নিয়ে সংঘর্ষে তিনজন টেঁটাবিদ্ধসহ কমপক্ষে ৩০জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মাঝে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদীতে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার বালু মহাল ইজারা নিয়ে অত্র ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নবী হোসেন, ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি আইয়ুব আলী মেম্বার ও আব্দুল বাসেত মেম্বার গং গত কয়েক বছর যাবত বালু উত্তোলন করে আসছে।
এদিকে বালুর টাকার ভাগ না পাওয়ায় তাদের সঙ্গে অত্র ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসেন মেম্বার ও জাতীয় পার্টি স্থানীয় নেতা ইলিয়াছ মিয়া গ্রুপের মাঝে দ্বন্দ্ব চলছিলো। এরই মাঝে সম্প্রতি নবী হোসেন গ্রুপ আনন্দবাজার মসজিদ সংলগ্ন একটি সরকারি পুকুরের ইজারা আনে।পুকুরটি এতদিন স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা ইলিয়াছ মিয়া ভোগদখল করে আসছিলেন। এই পুকুরটির ইজারা নিয়ে গত শুক্রবার রাতে ইলিয়াছ মিয়া ও নবী হোসেন গ্রুপের মাঝে প্রথমে তর্কাতর্কি এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এরই সূত্রধরে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসেন মেম্বার ও জাতীয় পার্টির নেতা ইলিয়াছ মিয়া গ্রুপ টেঁটা, লোহার রড, ধারালো রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নবী হোসেন গ্রুপকে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনে বাধা দেয়। এ সময় তাদের ধাওয়া খেয়ে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে গেলে তারা বালু উত্তোলনকাজে ব্যবহৃত ড্রেজারের ব্যাটারিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে আসে। এর কিছুক্ষণ পর নবী হোসেন গ্রুপের লোকজন টেঁটা, লোহার রড, ধারালো রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আনন্দবাজার এলাকায় আসলে উভয় গ্রুপের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে।
এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ অঞ্চল) সাজেদুর রহমান, সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত হায়াত শিপলু, থানার ওসি শাহ মো. মঞ্জুর কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ সংঘর্ষে জড়িত থাকায় বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের মনারবাগ এলাকার ইসমাঈল মেম্বারের ছেলে রকিকে গ্রেফতার করে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার ওসি শাহ মো. মঞ্জুর কাদের (পিপিএম) সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখনো পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা) কোন পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে সংঘর্ষে জড়িত রকি নামে একজনকে পুলিশ আটক করেছে।
ইত্তেফাক/জামান
