কাউনিয়া বাসীর চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৭, ২৩:৩৬

রংপুরের কাউনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও সেবিকা সংকটে স্বাস্থ্য সেবা মারাত্মক বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সার্জারী, গাইনি, এ্যানেসথসিয়া, মেডিসিন, চক্ষু, দন্ত ও শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে অপারেশন থিয়েটার ও ডেন্টাল ওটি থিয়েটার। ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই উপজেলার ৩ লাখ গরীব দুখী সাধারণ মানুষ। দরিদ্র জনগোষ্ঠি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হলেও দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, নোংরা আবর্জনা, দূর্গন্ধময় পরিবেশ, ঔষধ ও ডাক্তার স্বল্পতা, ভর্তিকৃত রোগীদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এখানে দেড়যুগ ধরে একটি এক্স-রে মেশিন অচল, আর একটি প্রায় কোটি টাকা মূল্যের নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন দিয়েছে সরকার। কিন্তু এটি ছয় মাস হয়, অপারেটরের অভাবে জনগণের স্বাস্থ্য সেবায় কাজে আসছে না। প্রায় ১৪ লাখ টাকা মূল্যের ২টি ডেন্টাল চেয়ার থাকলেও সে দুটিও ডাক্তার না থাকায় ও সেটিং এর অভাবে জনগণ এর সুফল পাচ্ছে না। রক্ত সংরক্ষনের রিফ্রেজারেটরটি একযুগ থেকে ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়ে গেছে। ডিস্টিল ওয়াটার তৈরির মেশিন টি ১৫ বছর ধরে ব্যবহার না করায় অচল হয়ে পড়ে আছে। জেনারেটর বিশেষ বিশেষ সময়ে চালু হলেও অধিকাংশ সময় চালু করা হয় না। মাস ৬ আগে হার্ডের রোগির জন্য একটি ইসিজি মেশিন প্রদান করা হলেও অপারেটরের অভাবে তা আজও প্যাকেট বন্দি হয়ে আছে। ৩টি ওটি রুম থাকলেও ১টিও ব্যবহার হয় না। ফলে গত ৫ বছর একটিও সিজার হয়নি।

যে কয়েকজন ডাক্তার আছেন তারা বেশীরভাগ সময় ট্রেনিংয়ে থাকেন। ডেন্টাল ডাক্তার না থাকায় তার কক্ষটি সব সময় বন্ধ থাকে। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ২জন কর্মকর্তা থাকলেও তাদের কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় তিন বছর থেকে ল্যাব অচল, ল্যাবে রাখা দামি যন্ত্র ও ঔষধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ২ জন ল্যাব এসিসটেন্ট ছিলেন তাদের এক জনকে বদলী করা হয়েছে এবং অন্য জন্য ট্রেনিং এ গেছেন। দরিদ্র রোগির সাধারণ কোন পরীক্ষার কাজ এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন আর হয় না। যক্ষ্মা রোগের টেষ্ট করার জন্য হারাগাছ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ব্র্যাকের সহায়তায় করাতে হয়। অনান্য পরীক্ষা বে-সরকারী প্যাথলজিতে অর্থ ব্যয় করে করাতে হয়।

এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেশির ভাগ সময় স্বাস্থ্য সেবা চলে স্বাস্থ্য সহকারী দিয়ে। সিভিল সার্জন কাউনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কালেভদ্রে পরিদর্শন করলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা ব্যবস্থা নেয় না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর বেহাল দশা সম্পর্কে টিএইচও ডাঃ নবিউর রহমান জানান, ১৫ জন ডাক্তারের বিপরীতে আছে ৫ জন। আরএমও পদটি ১০ বছর এবং নাসিং সুপারভাইজার পদটি ৭ বছর ধরে শূন্য রয়েছে। এক্স-রে, ইসিজি ও প্যাথলজি বিভাগের অপারেটরের ব্যাপারে আমি যোগদানের পর থেকেই প্রতিনিয়ত উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি কিন্তু কোন কাজ হয় নি। ডাক্তার ও অপারেটর পোষ্টিং দিয়ে নিয়ে আসার এখতিয়ার আমার নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপঙ্কর রায় জানান বিষয়টি নিয়ে জেলা মাসিক সভায় আলোচনা শেষে রেজুলেশন করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা টিপুমুন্শী (এমপি) উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি নিয়মিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভায় উপস্থিত হতে না পারায় ৮ বছর ধরে মিটিং হয় নি। কোনো রকমে জোড়া তালি দিয়ে চলছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স?

সব মিলিয়ে কাউনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা। এ যেন দেখার যেন কেউ নেই। এলাকার সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইত্তেফাক/নূহু