রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় পাহাড় ধসে মৃত্যুর মিছিলের খবর শুনে কক্সবাজারে পাহাড়ে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কক্সবাজার শহর ও শহরতলিতে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার ও জেলায় বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় আরো ২০ হাজার পরিবার পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। পাহাড়ে হাজার হাজার ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থাকার কারণে পাহাড় ধসের শঙ্কা রয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুমের আগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের তালিকা এবং সরানোর কমিটি গঠিত হয়। শুরুতে তারা কয়েকটি বসতি সরিয়ে দিতে সক্ষম হন। পরে তাদের কার্যক্রম থেমে যায়। ফলে পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীরা রয়ে গেছেন।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের উপদেষ্টা বিশ্বজিত সেন বলেন- ‘বর্ষা মৌসুমের আগে পাহাড়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা প্রয়োজন ছিল। পাহাড়ে দিন দিন অবৈধ বসতি বেড়ে যাচেছ। এখন পাহাড় ধস হলেই মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ হবে। আর এই মৃত্যুর দায়ভার বর্তাবে দায়িত্বশীলদের উপর।’ পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সরানো ও তালিকা প্রণয়ন কমিটির সদস্য এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘কমিটি গঠনের পর পর কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরানো হয়েছে। পরে পাহাড়ে বসবাসকারীরা তাদের না সরানো জন্য আন্দোলন করলে অভিযান থেমে যায়।’ কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পুলিশ বিভাগ, পৌরসভা, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠন হয়। গঠনের পর কার্যক্রম ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু হঠাত্ করে থেমে যায়। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত নিলেও বাস্তবায়ন হয় না। ফলে নাগরিকরা সমস্যা থেকে রেহাই পান না।’
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের তালিকা প্রণয়ন করার জন্য গঠিত কমিটি তালিকা প্রণয়ন করার পাশাপাশি নিয়মিত মাইকিংও করে। সচেতন করে মাইকিং করার কারণে তখন কিছু কিছু পরিবারকে পাহাড় থেকে সরানো সম্ভব হয়েছে। তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।’ জানা যায়, কক্সবাজার শহর ও শহরতলিতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। বিশেষ করে শহরের লাইট হাউজ, সৈকত পাড়া, সার্কিট হাউস সংলগ্ন, মোহাজের পাড়া, দক্ষিণ ঘোনারপাড়া, বাদশাঘোনা, বৈদ্যঘোনা, মধ্যম ঘোনারপাড়া, পাহাড়তলি, কলাতলী আদর্শগ্রাম, ঝরিঝরিকুয়া, নতুন জেল গেইট (দক্ষিণ) সদর উপজেলা অফিস সংলগ্ন, লিংকরোড পাহাড়ি এলাকায়। এসব ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস হচ্ছে বনভূমি ও পাহাড়ি খাস জমিতে।
জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেয়ে গতকাল ১৩ জুন শহরসহ জেলাব্যাপী মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশনা দেয়া হয়।’
ইত্তেফাক/কেকে
