পাবনার সুজানগর উপজেলার আমিনপুর থানাধীন আলাদীপুর গ্রামে পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে হাফিজুল ইসলাম (৭) নামে এক স্কুল ছাত্র খুন হয়েছে। সে ওই গ্রামের রজব আলী প্রামাণিকের ছেলে এবং স্থানীয় চরগোবিন্দপুর প্রভাতী কিন্ডার গার্টেন স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।
শনিবার রাতে আমিনপুর থানা পুলিশ ওই গ্রাম থেকে হাফিজুলের লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ উক্ত রজব আলীর নিকটআত্মীয় একই গ্রামের দুলাল মল্লিক (৪৫) ও তার স্ত্রী জবেদা খাতুনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে। তবে এ সময় প্রকৃত খুনি দুলাল মল্লিকের ছেলে সেলিম মল্লিক পালিয়ে গেছে।
আমিনপুর থানা পুলিশ জানায়, নিহত হাফিজুলের বাবা রজব আলী প্রামাণিক গ্রেফতারকৃত দুলাল মল্লিকের ছেলে পলাতক সেলিম মল্লিকের কাছে ২৫ হাজার টাকা পেতো। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে রজব আলীর সাথে সেলিম মল্লিক ও তার বাবা-মায়ের দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই জের ধরে শনিবার বিকালে কোন এক সময় সেলিম মল্লিক হাফিজুলকে কৌশলে তাদের বাড়ি ডেকে নিয়ে তার বাবা দুলাল এবং মা জবেদা খাতুনের সহযোগিতায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঘরের মাচানের নীচে পুঁতে রাখে। রাত ২টার দিকে সেলিমের বাবা দুলাল মল্লিক লাশ মাচানের নীচে থেকে তুলে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাঠে ফেলে দিতে গেলে এলাকাবাসী দেখা ফেলে। এ সময় সে লাশ ফেলে পালিয়ে যেতে চাইলে লোকজন তাকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে দুলাল ও তার স্ত্রী জবেদা খাতুনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি লাশ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ পাবনা মর্গে পাঠিয়েছে। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর জান্নাত মো. তাজুল হুদা জানান, প্রকৃত খুনি সেলিম মল্লিক পালিয়ে গেলেও তাকে গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
ইত্তেফাক/এমআই
