স্কোরবোর্ডে ২২৪ রানের পুঁজি জড়ো করতে পেরেছিল প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব।
ইনিংস বিরতি চলছে তখন। সকাল থেকে খরতাপের মাঝে ৫০ ওভার ফিল্ডিং, বোলিং করেছেন আবাহনীর খেলোয়াড়রা। মধ্যাহ্ন ভোজের সময়টাতে সতীর্থরা ড্রেসিংরুমে সবাই। কিন্তু ব্যাট হাতে নক করতে নেমে গেলেন সাব্বির রহমান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বিরতির সময়টা দুজনই হালকা নকিং করে কাটালেন।
প্রাইম দোলেশ্বরের ২২৫ রানের টার্গেটটা মিরপুর স্টেডিয়ামের উইকেটে কঠিন হয়ে যাবে, এমনটা হয়তো বুঝতে পেরেছিল আবাহনী শিবির। তাই তো রোদের মাঝে ফিল্ডিংয়ের পরিশ্রমের পরপরই লোয়ার মিডল অর্ডারের দুই ভরসা সাব্বির-সাইফউদ্দিন নেমে পড়েন ব্যাটিং ঝালিয়ে নিতে।
বাস্তবেও হয়েছে তাই। রান তাড়া করতে গিয়ে ভালোই চাপে পড়েছিল আবাহনী। ১৩৫ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে বসেছিল ক্লাবটি। পরে ব্যাট হাতে অভিজ্ঞ ওপেনার জহুরুল ইসলাম অমির সঙ্গে দলের ত্রাতা হয়ে ধরা দেন সাইফউদ্দিন। তাদের ব্যাটেই দোলেশ্বরের বাধা টপকে গেল আবাহনী। গতকাল ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের নবম রাউন্ডের ম্যাচে মিরপুরে দোলেশ্বরকে চার উইকেটে পরাজিত করেছে আবাহনী।
প্রথমে ব্যাট করে নয় উইকেটে ২২৪ রান তোলে প্রাইম দোলেশ্বর। জবাবে ৪৮.৫ ওভারে ছয় উইকেটে ২২৭ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় আবাহনী। আবাহনীর পক্ষে অপরাজিত ৯১ রান করা জহুরুল ইসলাম ম্যাচ সেরা হন।
মিরপুরের উইকেটে সকালে ব্যাটসম্যানদের জন্য সবসময়ই পরীক্ষা ক্ষেত্র। টসে হেরে ব্যাট করতে নামা দোলেশ্বর ২৭ রানেই হারায় দুই ওপেনারকে। ইমরানুজ্জামানকে (২) সাইফউদ্দিন, সাইফ হাসানকে (১২) ফেরান মাশরাফি। তারপর মিডল অর্ডারে বেশ কয়েকটি জুটি হয়েছিল দোলেশ্বরের ইনিংসে। কিন্তু দলের অবস্থান সুসংহত হওয়ার আগেই বিচ্ছিন্ন হয়েছে জুটিগুলো। তাতেই ৫০ ওভার খেললেও দোলেশ্বরের রানটা বড় হয়নি। ফরহাদ হোসেন ৪৭, তাইবুর রহমান ৪১, মার্শাল আইয়ুব ৪০, সাদ নাসিম ৩৪, সৈকত আলী ২৩ রান করেন। আবাহনীর সৌম্য চারটি, মাশরাফি দুটি, সাব্বির, মিরাজ, সাইফউদ্দিন একটি করে উইকেট পান।
রান তাড়া করতে নেমে ২৩ রানে তিন উইকেট হারায় আবাহনী। সৌম্য (১০), শান্ত (০), পাঞ্চাল (০) দ্রুত ফিরে যান। চতুর্থ উইকেটে মিঠুনের সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি গড়েন জহুরুল। ৪০ রান করা মিঠুনকে ফেরান সাদ নাসিম। বেশ ভালো শুরু করলেও সাব্বির ২৪ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। দলীয় ১৩৫ রানে অধিনায়ক মোসাদ্দেক (২) ফিরলে বিপদে পড়ে আবাহনী। সপ্তম উইকেটে দলের হাল ধরেন জহুরুল ও সাইফউদ্দিন। এই জুটি ভাঙারও সুযোগ পেয়েছিল দোলেশ্বর। রানআউটের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ফরহাদ রেজা।
পরে আর বিপদ হতে দেননি জহুরুল-সাইফউদ্দিন। তাদের ৯২ রানের জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আবাহনী। জহুরুল অপরাজিত ৯১, সাইফউদ্দিন অপরাজিত ৫৫ রান করেন। দোলেশ্বরের আবু জায়েদ রাহী দুটি উইকেট পান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আবাহনী: ৫০ ওভারে ২২৪/৯ (ফরহাদ হোসেন ৪৭, তাইবুর রহমান ৪১, মার্শাল আইয়ুব ৪০, সাদ নাসিম ৩৪, সৈকত আলী ২৩, সাইফ হাসান ১২; সৌম্য ৪/৩৪, মাশরাফি ২/৪৮, সাব্বির ১/১০, মিরাজ ১/৪২, সাইফউদ্দিন ১/৪৩)
প্রাইম দোলেশ্বর: ৪৮.৫ ওভারে ২২৭/৬ (জহুরুল ইসলাম ৯১*, সাইফউদ্দিন ৫৫*, মিঠুন ৪০, সাব্বির ২৪, সৌম্য ১০; রাহী ২/৪৭, আরাফাত সানি ১/৩৬, ফরহাদ রেজা ১/৩৭, সাদ নাসিম ১/৪৪, মানিক খান ১/৪৭)
ফলাফল: আবাহনী চার উইকেটে জয়ী
