খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের মধ্যে চরম গাফিলতির কারণে এবারের ঈদের আগে প্রায় ২৮ হাজার দুঃস্থ পরিবার ভিজিএফের চাল পায়নি। ঈদের আগে সরকারী ভাবে বরাদ্দ দেওয়া চাল না পাওয়ায় অসহায় দুঃস্থ পরিবারগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভ এবং হতাশা দেখা দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন-এর জন্য খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। আজ বুধবার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের জন্য ২৭ হাজার ৯৯৩ দুঃস্থ পরিবার ভিজিএফের চাল পাওয়ার জন্য কার্ড পেয়েছেন। প্রতিজন দরিদ্র ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা।তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩৭১ মেট্রিক টর চাল। সেই হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগন দুঃস্থদের নামের তালিকা নির্ধারিত সময়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রেরণ করেছেন। গত ২২ জুন এ চাল বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের মধ্যে রশি টানাটানি এবং তাদের মধ্যে চরম গাফিলতির কারণে মির্জাপুরে ভিজিএফের চাল এখন পর্যন্ত (আজ ২৮ জুন বুধবার পর্যন্ত) আসেনি বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে দুই নম্বর জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, তার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ১ হাজার ৭০০ জন দরিদ্র বিজিএফের চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কেউ চাল পায়নি। কি কারণে ভিজিএফের চাল পাচ্ছে না তার সঠিক কারণ তিনিও জানেন না বলে অভিযোগ করেছেন।এই চেয়ারম্যানের মত উপজেলার বানাইল, ওয়ার্শী, আনাইতারা, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, ফতেপুর, আজগানা, তরফপুর, আজগানা ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগও একই অভিযোগ করেছেন।
মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কনক কান্তি দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জের (চাল ও গম) সরবরাহকারী ঠিকাদার ভিজিএফের চাল ও গম সরবরাহ না করায় এবারের ঈদের আগে দুঃস্থদের মধ্যে চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, ঠিকাদারের সঙ্গে বার বার কথা হলেও তারা বলেছেন ঈদের আগে পুলিশ মহাসড়কে লড়ি ও মালবাহী ট্রাক ঢুকতে না দেওয়ায় তারা গম ও চাল সরবরাহ করতে পারছে না বলে দাবী করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা দুঃস্থদের তালিকা নির্ধারিত সময়ে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছি। কিন্তু গোডাউনে চাল না থাকায় দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা যাচ্ছে না।
ইত্তেফাক/এমআর
