সীমান্তের ওপারে শত্রুপক্ষের সেনাঘাঁটি বা জঙ্গিদের গোপন ঘাঁটিগুলোর উপর মহাকাশ থেকে নিখুঁতভাবে নজর রাখার জন্য এ বছর আরো ৫টি সামরিক উপগ্রহ পাঠাবে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। সেই উপগ্রহগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন ৪টি সিরিজের সর্বাধুনিক ৪টি ‘রিস্যাট’ উপগ্রহ। কক্ষপথে পাঠানো হবে আরো উন্নত করে তোলা ‘কার্টোস্যাট’ সিরিজের নবতম সংযোজন ‘কার্টোস্যাট-৩’ উপগ্রহকেও। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
ইসরোর চেয়ারম্যান কে সিভন এই কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, মহাকাশে দেশের প্রতিরক্ষা সম্পদ বাড়ানোর বিষয়টিই এই বছর অগ্রাধিকার পাবে। এই বছরই চন্দ্রযান-২ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ইসরোর চেয়ারম্যান। পাঠানো হবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে আরো তিনটি উপগ্রহ ‘জিস্যাট-২০’, ‘জিস্যাট-৩০’ এবং ‘জিস্যাট-৩২’। রিস্যাটের পুরনো সিরিজের উপগ্রহের পাঠানো ছবি ও তথ্যের ভিত্তিতেই ২০১৬ হয়েছিল সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। এ বছর পাকিস্তানের বালাকোটে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরে যে বিমান-হানা চালিয়েছিল ভারতীয় বিমানবাহিনী, সেটাও ওই রিস্যাটের পাঠানো ছবির ভিত্তিতেই।
ইসরোর চেয়ারম্যানের দাবি, মহাকাশে দেশের প্রতিরক্ষা সম্পদ বাড়াতে এ বার আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে ওই ৫টি উপগ্রহ। সিভন জানিয়েছেন, কার্টোস্যাটের পুরনো সিরিজের উপগ্রহের ক্যামেরার রেজোলিউশন ছিল ০.৫ মিটার বা ৫০ সেন্টিমিটার। এ বার যা করা হয়েছে ০.২ মিটার বা ২০ সেন্টিমিটার। যার অর্থ, এত দিন ৫০ সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের কোনো পদার্থকে মহাকাশ থেকে নিখুঁতভাবে দেখতে পারতো না কার্টোস্যাটের পুরনো সিরিজের উপগ্রহের ক্যামেরা। এবার কার্টোস্যাটের নতুন সিরিজের উপগ্রহ কার্টোস্যাট-৩-এর ক্যামেরা ২০ সেন্টিমিটার আকারের পদার্থকেও মহাকাশ থেকে ভালোভাবে দেখতে পারবে। ইসরোর চেয়ারম্যানের কথায়, ‘‘তার ফলে সীমান্তের ওপারে জঙ্গিদের ঘাঁটি বা তাদের বাঙ্কার, গাছ-পাতার আড়ালে ঢাকা-চাপা দেওয়া সুড়ঙ্গগুলোকে তো বটেই, এমনকি, বন্দুকের মতো অস্ত্রশস্ত্রও দেখা সম্ভব হবে।’’ সিভন জানিয়েছেন, এই বছর রকেট ও উপগ্রহ মিলিয়ে মোট ৩৩টি মিশন হবে ইসরোর। রিস্যাট-২বি সিরিজের নতুন গোয়েন্দা উপগ্রহগুলো পুরনোগুলোর চেয়ে অনেকটাই হালকা হবে। সেগুলোতে যে অত্যাধুনিক রেডার থাকবে তা ১ মিটার পুরু মেঘ ভেদ করেও লক্ষ্যবস্তুর ছবি তুলতে পারবে নিখুঁতভাবে।’’
