টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে।পৌরসভা এলাকায় কিছুটা বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও গ্রামের অবস্থা খুবই খারাপ।গ্রামে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৩-৪ দিন পর পর বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।তীব্র লোডশেডিং থাকায় নষ্ট হচ্ছে টিভি-ফ্যান-ফ্রিজসহ ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি।লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা।
স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাগন লোডশেডিংয়ের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, চাহিদা অনুপাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
আজ শনিবার উপজেলার পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লা, পৌর সভার বাহিরে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে গ্রামে খোঁজ নিয়ে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে।
উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলা একটি জনবহুল ও বিশাল এলাকা। এখানে সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত, গোড়াই শিল্পাঞ্চলসহ একটি ক্যাডেট কলেজ, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, কুমুদিনী উইমেনস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, নার্সিং স্কুল ও কলেজ, ভারতেশ্বরী হোমস, দুটি ট্রেন স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন সে অনুপাতে বিভিন্ন সাব স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় না। সূত্রটি আরও জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা, গোড়াই শিল্পাঞ্চল, বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাজারি শিল্পকারখানা এবং ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গ্রাহক সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৯০ হাজার। দিন দিন এই গ্রাহক সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বৃহৎ এই এলাকায় বিদ্যুৎ প্রয়োজন প্রায় ৩৪ থেকে ৪০ মেগাওয়াট। কিন্তু এখন পাওয়া যাচ্ছে কখনো ২০-২২ মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকছে প্রায় ১৫-১৬ মেগাওয়াট। ঘাটতি পূরণ করতেই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে বলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বশীল সূত্রটি জানিয়েছেন।
এ দিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কবিরপুর পল্লীবিদ্যুৎ স্টেশন এবং টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুত্ স্টেশন-এই দুইটি কেন্দ্র থেকে মির্জাপুর উপজেলার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। নানা জটিলতা ও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কেন্দ্র দুটির দুর্নীতি পরায়ণ কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী মির্জাপুরে ১০-১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে মির্জাপুর উপজেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে দিনের পর দিন লোডশেডিং চলছে। শহর এলাকায় লোডশেডিং একটু কম হলেও গ্রামের অবস্থা এতটাই খারাপ যে বিভিন্ন এলাকায় দিনে রাতে মিলে ২-৩ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। আবার কোন গ্রামে ৩-৪ দিন পর পর বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।কবে নাগাদ এই শোডশেডিং সমাধান হবে তা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসও সঠিক কিছু বলতে পারছেন না।গত রমজান মাসেও এ লোডশেডিং আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছে।
এ দিকে সবচেয়ে বিপাকে পরেছে শিক্ষার্থীরা। এক দিকে অসহনীয় গরম, অন্য দিকে তীব্র লোডশেডিং। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিকমত পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছে। উপজেলার মহেড়া, জামুর্কি,ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম,ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফুপর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে লোডশেডিংয়ের কবলে পরে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা সদরের পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) সুশান্ত কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মির্জাপুরে বিদ্যুৎ প্রয়োজন ৩৪-৩৫ মেগাওয়াট। কিন্তু কবিরপুর ও টাঙ্গাইল স্টেশন বিদ্যুৎ সরবরাহ করছেন ২২-২৩ মেগাওয়াট। ঘাটতি পূরণ করতেই লোডশেডিং হচ্ছে। তবে এ সমস্যা বেশি দিন থাকবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এমআর
