সাদা পোশাকে মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে গিয়ে সোনারগাঁও থানার দুই পুলিশ সদস্য জনরোষের শিকার হয়েছেন। সোনারগাঁও থানার এএসআই ইমাম আহাদ ও কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এসময় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বাবুলকে আট কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে ফেরার পথে বাবুলকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের উপর হামলা চালায় মাদক ব্যবসায়ীর সহযোগী ও তার পরিবার লোকজন।
হামলায় এএসআইয়ের ব্যবহৃত অস্ত্র লুট করে মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেয় তার লোকজন। পরবর্তীতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশের লুটকৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। শনিবার দুপুরে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের কাজরদি দেলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) সাজিদুর রহমান, সোনারগাঁও থানার ওসি শাহ্ মো. মঞ্জুর কাদের (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে সোনারগাঁও থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইমাম আহাদ ও কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম সাদা পোশাকে সাদিপুর ইউনিয়নের কাজরদি দেলপাড়া গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বাবুল মিয়ার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। পরে আট কেজি গাঁজাসহ বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় মাদক ব্যবসায়ী বাবুল মিয়াকে ছাড়িয়ে নিতে তার সহযোগী ও পরিবারের লোকজনরা সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ইউপি মেম্বার) আশরাফ আলী ও স্থানীয় সামাদ মিয়াসহ আরো কয়েকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদের উপরও হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এএসআই ইমাম আহাদ, কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম ও সোর্স রনি মিয়াকে গণধোলাই দিয়ে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে এএসআই আহাদের সাথে থাকা অস্ত্র লুটে নেয়। এছাড়াও স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফ আলী, সামাদ মিয়া, রাসেল, বাতেন ও কবিরসহ কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ী বাবুলকে গাঁজাসহ গ্রেফতারের পর থানায় নিয়ে আসার সময় বাবুলের পরিবার ও তার লোকজনরা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকার নিরীহ সামাদ মিয়া নামে আরেক ব্যক্তিকে নিয়ে আসার সময় স্থানীয় ৯নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আশরাফ আলী তাকে বাঁধা দেয়। এসময় এএসআই ইমাম আহাদ ইউপি সদস্য ও সামাদ মিয়াকে মারধর করে। এসময় ইউপি সদস্যের মাথা ফেটে যায়। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আশরাফ আলীর সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশ সদস্যদের গণধোলাই দিয়ে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইমাম আহাদ জানান, মাদক ব্যবসায়ী বাবুলকে গ্রেফতার করে ফেরার পথে তার ছেলে মেয়ে ও তার লোকজনরা আমাকে ও কনস্টেবলকে মারধর করে তাকে ছিনিয়ে নেয়। এসময় বাবুলের লোকজনরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকলে ইউপি সদস্য আশরাফ আলীর মাথা ফেটে গিয়ে আহত হয়।
সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফ আলী জানান, আব্দুর সামাদ নামে ষাটোর্ধ একজন মুরুব্বীর সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা দেখে আমি বাধা দেই। এসময় পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পাই। যার জন্য এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। কিন্তু তখন জানতাম না যে মাদক বিক্রেতা বাবুলকে গ্রেপ্তার করতে এসেছিল পুলিশ। জানলে এসব কিছুই হতো না।
সোনারগাঁও থানার ওসি শাহ মো. মঞ্জুর কাদের (পিপিএম) জানান, সাদা পোশাকে মাদক ব্যবসায়ী ধরতে গিয়ে এক এএসআই ও কনস্টেবলকে আহত করে মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খোয়া যাওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ইত্তেফাক/জামান
