অযত্ন-অবহেলায় বরিশাল বিসিক শিল্প এলাকা

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৭, ০৩:৪৯

অবহেলা আর অযত্নে পড়ে থাকা দেশের সর্ববৃহত্ বরিশাল শিল্প নগরীর বিশাল সম্পত্তি কোনো কাজে আসছে না। ১৯৬০ সালে ১৩০ দশমিক ৬১ একর জমির উপর এ শিল্প নগরী গড়ে তোলা হয়। তখন ব্যয় হয়েছিল ১৩১ দশমিক ৬৫ লাখ টাকা। কিন্তু দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এর কোনো বিকাশ ঘটেনি। বরং চরম অযত্ন আর অবহেলায় বিসিকের এখন চরম বেহাল অবস্থা।

এ শিল্প এলাকার সড়কের খানা-খন্দে কোনো পরিবহন চলাচল করতে পারছে না। ড্রেনেজ পদ্ধতির কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই পুরো বিসিক এলাকা তলিয়ে যায়। এত বিশাল এলাকা রক্ষায় এ শিল্প নগরীতে নেই নৈশ প্রহরি। বিসিক অফিসের এস্টেট অফিসার মো. মোজাম্মেল হক এলপিআরে থাকায় কেউ তথ্য দিতে নারাজ। কম্পিউটার অপারেটর মো. নাসির জানান, দুইজন নৈশ প্রহরির পদ থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত্ তা শূন্য রয়েছে। বর্তমানে বিশাল এ শিল্প এলাকার দায়িত্বে রয়েছেন হিসেব শাখায় একজন, স্টোর অফিসার একজন, কম্পিউটার অপারেটর একজন, অফিস পিয়ন দুইজন, ঝাড়ুদার একজন এবং একজন পাম্প অপারেটর।

অযত্ন-অবহেলার পাশাপাশি ভয়াবহ বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে বরিশাল বিসিক শিল্প নগরী এখন পরিত্যক্ত এলাকা। এখানকার ৫০টির বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার শ্রমিক এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তাদের বেতন-ভাতা দেয়াতো দূরের কথা শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই মুশকিল হয়েছে মালিকদের জন্য। দেশের সর্ববৃহত্ আয়তনের এ বিসিক শিল্প এলাকা এখন হুমকিতে।

ম্যাকপাই পিভিসি প্লাষ্টিক ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী রাইসুল হায়দার টিপু জানান, ২০০৬ সালে ব্যাংক ঋণসহ ৫০ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি বিসিকে একটি প্লট নিয়ে প্লাষ্টিক ব্যবসা শুরু করেন। সেই থেকে বিসিক অফিসের নানা অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অব্যাহত লোডশেডিংয়ে তিনি এখন দেউলিয়ার পথে। তিনি জানান, পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য কোনো গাড়ি তার ফ্যাক্টরি পর্যন্ত আসতে পারলেও পণ্য নিয়ে আর যেতে পারে না। সড়কের খানা-খন্দে পণ্য বোঝাই গাড়ি আটকে থাকে। এজন্য তিনি এ ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন বলে জানান।

বিসিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান অহিদ জানান, চেষ্টা করেও এ শিল্প এলাকার উন্নয়নে এখানকার বিসিক অফিসের কোনো সহযোগিতা পাননি। তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন স্থান থেকে শিল্প উদ্যোক্তাদের বিসিকে এনে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে তিনি এখন বিপাকে পড়েছেন।

বিসিকের ডিজিএম অসিম কুমার ঘোষকে অফিসে না পেয়ে মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি জানান, বরিশাল বিসিকের জন্য একনেকে বেশ কিছু টাকা অনুমোদন হয়েছে। যা দিয়ে মাটি ভরাট, রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, বিদ্যুত্ ও সাব-মারসিবল পাম্পসহ পানি সরবরাহ লাইন সংযোগ দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু