বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ছাত্র আন্দোলনের ১০ দিনে বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসন ও দাবি আদায়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা বেলা ১১টার দিকে বরিশাল-পটুয়াখালী সড়ক অবরোধ করে। এতে যানবাহন চলাচলে স্থবিরতা দেখা দিলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত আইজিপি) মোশারফ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি সুরাহার জন্য আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের চার বছরের ব্যর্থতা, দুর্নীতি সম্পর্কে অভিযোগ মৌখিকভাবে তুলে ধরেন এবং পদত্যাগ দাবি করেন। এ সময় বিএমপি কমিশনার বলেন, শনিবার বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে যে আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে আশাকরি আমরা সেখানেই সুষ্ঠু ও সুন্দর সমাধানে পৌঁছাতে পারবো। আলোচনা সভায় উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা আলোচনা সভায় বসতে সম্মত। কিন্তু দাবি পূরণ না হলে সড়ক অবরোধের মত কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। তবে বৈঠকের আগ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চলবে বলে জানান তারা।
প্রসঙ্গত ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষার্থীদের ব্যতিরেকে উপাচার্যের চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলায় উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে টানা ১০ দিন এই আন্দোলন চলমান রয়েছে। এর মধ্যে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলেও ক্যাম্পাস ছাড়েনি শিক্ষার্থীরা।
