বাসচাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণের ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য গ্রীন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ পালনে ব্যর্থ হলে ওই কোম্পানির সকল বাস জব্দ করা হবে। এমনকি প্রয়োজনে নিলামে গাড়ি বিক্রি করে ওই অর্থ আদায় করা হবে। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ নির্দেশ দেন। বাস কোম্পানির ম্যানেজারের উদ্দেশে আদালত বলেন, ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে ১০ এপ্রিল আদালতকে হলফনামা আকারে জানাবেন। যদি ব্যর্থ হন তাহলে ১১ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করবেন না। টিকিট বিক্রি করে জনগণের ভোগান্তি বাড়াবেন না। হলফনামা দেখে ওইদিন আইনানুযায়ী যে ধরনের আদেশ দেওয়া দরকার তা আমরা দেব।
ভুক্তভোগী রাসেল সরকার সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ঘটনার পর পরিবহনের কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আমার যে ক্ষতি হয়েছে হাজার কোটি টাকা দিলেও তা পূরণ হবে না। গ্রীন লাইন অনেক বড় কোম্পানি এজন্য অনেক সময় আতঙ্কে ও ভয়ের মধ্যে থাকি। তিনি বলেন, পাঁচশ টাকা ধার করে আদালতে এসেছি। অভাব-অনটনের মধ্যে আমার সংসার চলছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আমি খুব কষ্টে আছি।
এর আগে গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসের চাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য ওই বাস কোম্পানিকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ৩১ মার্চ ওই আদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগ বলেন, যান্ত্রিক কারণে নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। দায়ীদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। ওইদিনই হাইকোর্ট ৩ এপ্রিল বুধবারের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা দিতে বাস কোম্পানিকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্ধারিত দিনের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ করেনি বাস কোম্পানি।
বিষয়টি গতকাল আদালতের দৃষ্টিতে এনে রিটকারীর আইনজীবী খোন্দকার শামসুল হক বলেন, গ্রীন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তাদেরকে তলব করা দরকার। পরিবহনের আইনজীবী মো. ওজিউল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে গ্রীন লাইন পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে কথা হয়েছে। এরপর বেলা ২ টায় ম্যানেজারকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার উপস্থিত ছিলেন।
তলব আদেশে যথাসময়ে আদালতে হাজির হন গ্রীন লাইনের জিএম আব্দুস সাত্তার। আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি বলেন, কোম্পানির মালিক শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিত্সার জন্য ৩১ মার্চ ভারতে গেছেন। ৯ এপ্রিল দেশে ফিরবেন। টেলিফোনে আদেশের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালত বলেন, কোম্পানির লেনদেন কিভাবে চলে? ম্যানেজার বলেন, মালিকের স্বাক্ষরে চেকে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। আইনজীবী ওজিউল্লাহর উদ্দেশে তখন হাইকোর্ট বলেন, আপনার মক্কেল দেশে নেই বিষয়টি জেনেও আপনি লিখিত আবেদন দেননি। উচিত ছিলো আবেদন দেওয়া। আদালতের আদেশ নিয়ে অবহেলা দেখালে কাউকে টলারেট (সহ্য) করব না। এ পর্যায়ে রিটকারী আইনজীবী একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখিয়ে বলেন, ক্ষতিপূরণের আদেশ বহালের পরই মালিক ইচ্ছে করেই বিদেশে গেছেন। আদালত বলেন, এসব প্রতিবেদন আমরা দেখতে চাই না। যেহেতু অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে সেজন্য তাদেরকে সময় দেওয়া হয়েছে।
আদেশের পর গ্রীন লাইনের জিএম আব্দুস সাত্তার বলেন, ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে তা নয়। সমস্যার শুরু হচ্ছে। কারণ চালকরা গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা একটি প্রাণীও মারতে চায় না। তবে টাকা দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে।
