মাগুরায় ১২টির মধ্যে মাত্র দুটি সিনেমা হল নিভু নিভু করে চালু আছে। দর্শক-খরায় নিয়মিত শো চালু রাখাই এখন কঠিন ব্যাপার। একসময় মাগুরা জেলায় পূর্বাশা, মধুমতী, রংমহল, ছায়াবাণী, বিউটি, লিপি, ফাল্গুনি, রূপসাগর, শিল্পী, নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে সিনেমার শো চালাতো। মাত্র ৩০ বছর আগেও দর্শকের চাপ সামলাতে মর্নিং শো পর্যন্ত চালাতে হতো।
কিন্তু আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব, সিনেমার পাইরেসি আর ইন্টারনেটের প্রভাবে এখন সিনেমা হল দর্শকশূন্যতায় নীরবে কাঁদছে। অধিকাংশ সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গোটা জেলায় মাত্র ২টি সিনেমা হল কোনমতে চালু আছে। পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে সেগুলিও অচিরেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা করছে কর্তৃপক্ষ।
শহরের কলেজ পাড়ার বাসিন্দা আসাদুর রহমান, সাহাপাড়ার আয়ুব হোসেন, নান্দুয়ালী গ্রামের মৌসুমি সাহাসহ একাধিক দর্শক জানান, এক সময় মানুষের বিনোদনের মাধ্যম ছিল খুব কম। সে সময় আমরা টিকিট কেটে লাইন দিয়ে সিনেমা দেখতাম। ভিড়ের চাপে অনেক সময় ব্ল্যাকে টিকিট কাটা লাগতো। এখন বিকল্প বিনোদন বেড়েছে। ঘরে বসে রিমোট টিপলেই শত চ্যানেল। মোবাইলের বাটনে ফেসবুক ইউটিউব সহ নানা বিনোদনের ব্যবস্থা। তাছাড়া সিনেমা হল যাও আছে তা একেবারেই নিম্নমানের। ভাল ছবি তৈরি হলেও হলের পরিবেশের কারণেই দর্শক হলমুখি হচ্ছে না।
শহরের পূর্বাশা সিনেমা হলের গেটম্যান হারেজ আলী জানান, আগে যেখানে সিনেমা হলে ঢোকার জন্য দর্শকের লম্বা লাইন থাকতো। গেট রক্ষা করতে রীতিমত হিমশিম খেতে হতো। এখন সেখানে দর্শকের অভাবে হলে শো শুরু করাই কষ্টকর। যে টাকার টিকিট বিক্রি হয় তাতে কর্মচারীদের বেতনই ওঠে না। এখন সিনেমার বড় দুর্দিন।
শহরের মধুমিতা হলের ম্যানেজার পান্না লাল বিশ্বাস জানান, একসময় এখানে মধুমতী সিনেমা হল ছিল। দেনার দায়ে মধুমতী হলটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে নতুন ব্যবস্থাপনায় মধুমিতা নামে সিনেমা হলটি চালু হলেও লাভের মুখ দেখেনি। এখন কোনমতে চলছে হলটি। দেশে ভাল ভাল সিনেমা তৈরি হলেও হলে দর্শক না আসায় আমরা লাভের মুখ দেখতে পারছি না। অবস্থা ভাল না। অন্য কোন কাজ শিখিনী। তাই এ কাজ নিয়েই পড়ে আছি। সরকার যদি হলগুলো আধুনিক করার জন্য সহযোগিতা করতো। তাহলে এখনও দর্শক আকর্ষণ করা যায় বলে আশা করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতিম দাস জানান, সিনেমা আমাদের সংস্কৃতির একটি অন্যতম অনুষঙ্গ। কিন্তু বর্তমানে নানা কারণে দর্শক সিনেমা হলমুখি হচ্ছেন না। অথচ দেশে এখন অনেক ভাল ভাল সিনেমা তৈরি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সিনেমা হলগুলির পরিবেশ নিশ্চিত করা ও নতুন মুক্তি পাওয়া সিনেমা স্থানীয় কেবল নেটওয়ার্কে চালানো বন্ধ করতে পারলে সিনেমার সুদিন ফিরে আসবে। সরকার কিছু কিছু সিনেমা হল সংস্কারের জন্যও অনুদান দিচ্ছে বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/এমআর
