পাট নিয়ে যে এত সুন্দর আসবাব হতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস হবে না। বাংলাদেশের শিল্পীদের করা আধুনিক ডিজাইনের আর্মচেয়ার ও সাইড টেবিল দেখলে যে কেউ অবাক হতে বাধ্য। বাংলার পাট যেন নতুন রূপে ফিরে আসছে। ফ্রাঙ্কো-জার্মান দূতাবাসের উদ্যোগে পাট, সমন্বিত ঐতিহ্য এবং আবিষ্কার প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা হয়েছে এ আসবাবগুলো। পাট ও রেজিনের সঙ্গে আরো সব উপকরণ যোগ করে আসবাবপত্র তৈরি করাই ছিল এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। গতকাল বারিধারার ফ্রাঙ্কো-জার্মান দূতাবাসে পাট থেকে তৈরি এসব আসবাবের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি অবের ও জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিঞ্জ।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মূল দ্বন্দ্বই ছিল পাট নিয়ে। বর্তমান সরকার পাটের সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। অচিরেই পাট নতুনভাবে বিশ্ব বাজারে তার জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি অবের বলেন, এটি চমত্কার একটি প্রকল্প। পাট শিল্পের সম্ভাবনা আরো সম্প্রসারিত করতে বাংলাদেশের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। কেননা পাট আধুনিককালের চাহিদা পূরণে নতুন আদলে কাজে লাগানো সম্ভব।
জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিঞ্জ বলেন, পাটের আঁশ থেকে তৈরি পণ্য খুব আকর্ষণীয় এবং দামে সস্তা। তারচেয়েও বড় বিষয় এটি পরিবেশবান্ধব। ইউরোপের বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে গাড়ির ড্যাশ বোর্ড, প্যানেলসহ আধুনিক গাড়ি নির্মাণে এর চাহিদা রয়েছে। গতবছর আলিয়স ফ্রসেজ, গ্যেটে ইন্সটিটিউট, অটবি এবং গোল্ড অব বেঙ্গল যৌথভাবে পাট নিয়ে নকশা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এর উদ্দেশ্য ছিল সৃজনশীল উপায়ে পাটের ব্যবহার উত্সাহিত করা। ফরাসি প্রশিক্ষকবৃন্দের তত্ত্বাবধানে ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্পের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার লক্ষ্যে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগ ও চারুকলার শিক্ষার্থীরা এ প্রকল্পে নকশা জমা দিয়েছিল। সেখান থেকে আটটি নকশা বেছে নিয়ে কর্মশালা হয়। সেই কর্মশালা থেকেই এ দুটি আসবাব তৈরি করা হয়। গতকালের প্রদর্শনীতে কর্মশালায় অংশ নেয়া শিল্পীদের সনদপত্র তুলে দেন দুই দেশের রাষ্ট্রদূত। কর্মশালায় অংশ নেয়া শিল্পীরা হলেন— তাহসিনুল কবির, আনিসুল ইসলাম খান, জাকির আহমেদ, আনিলিয়া গৌরব, রেজওয়ানা রাকা সিদ্দিকা, ফারহাত জেরিন, রাকিবুজ্জামান ও ফাহিম হাসিন শাহান।
ইত্তেফাক/নূহু
