জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে খুন হলেন তৌহিদ

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৪৬

জেল থেকে জামিনে বের হয়ে বাড়ি ফেরার দিন তৌহিদকে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল প্রতিবেশী কয়েকজন যুবক। পরে তারা তৌহিদকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ঘটনার ১০ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুক্তিযোদ্ধা সন্তান যুবলীগ নেতা তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ সানা। 

তৌহিদ সানা সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বড়দল গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক সানার ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা একটি হাসপাতাল থেকে তার লাশ নিজ বাড়ি বড়দল গ্রামে নিয়ে আসা হয়। 
 
স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি তৌহিদ সানার বিরুদ্ধে থানায় একটি মাদকের মামলা আছে। ওই মামলায় মাস তিনেক আগে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ২৬ মার্চ জামিনে জেল থেকে বের হন তৌহিদ।
 
তৌহিদের স্বজনরা জানায়, বাড়ি ফেরার পর তৌহিদ বড়দল বাজারের একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় তার চাচাতো ভাই টুটুল সানা সন্ধ্যার দিকে তাকে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে তার অফিসে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর পর থেকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ রানা ওরফে বাবু সানা, তার সহযোগী কাজল সানা, আইয়ুব আলি মালি ও ইয়াসিন সরদারসহ ৫/৬ জন সেখান থেকে তৌহিদকে জনৈক খোকনের দোকানে নিয়ে গিয়ে হামলা করে। তারা তৌহিদকে লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। জীবন বাঁচাতে তৌহিদ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আলিমের সহযোগিতা চান। সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়। 

আরো পড়ুন: অভিনয় ছেড়ে দেওয়া সেই অভিনেত্রী এখন গুগলপ্রধান

তার স্বজনরা আরো জানান, তৌহিদ মাদকসেবী কাজল সানাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল। এতে কাজলের জেল থেকে বের হতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। কাজল সেই টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করে আসছিল। এ ঘটনায় বাবু সানা, কাজল সানা ও টুটুল সানাসহ ৫/৬জন তার উপর ক্ষিপ্ত ছিল। এর জেরে তারা তৌহিদকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। 

আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ জানান, নিহতের বোন রিনা রহমান ছয়জনকে আসামি করে  মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/অনি