খুন হওয়ার প্রতিবাদে লাশ নিয়ে বগুড়া শহরে মানববন্ধন করেছে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বগুড়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের প্রথম বর্ষের ছাত্র সোহাগ কর্মকার (১৭) ছুরিকাঘাতে খুন হয়।
ওই হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেফতার সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার দুপুর ২টার দিকে সোহাগের লাশ নিয়ে ওই মানববন্ধন করা হয়।নিহত সোহাগ গাবতলী উপজেলার মধ্যকাতুলী হিন্দুপাড়ার অমূল্য চন্দ্র কর্মকারের ছেলে।
গাবতলী থানা পুলিশ দাবি করেছে হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- একই এলাকার তাহের ও সমিজ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বগুড়া সদর উপজেলার মেঘাগাছা গ্রামের মোস্তাফিজারের ছেলে হাবিজার (২৮) বিভিন্ন গ্রামে দাদন (সুদের ) ব্যবসা চালিয়ে আসছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সুদের টাকা আদায়ের জন্য হাবিজার গাবতলীর মধ্যকাতুলী গ্রামে যান। ওই গ্রামের একজন নারী টাকা দিতে না পারায় হাবিজার তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকলে সোহাগসহ কয়েকজন যুবক বাধা দেয় এবং হাবিজারকে চলে যেত বলে।
এঘটনায় হাবিজার ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে ৬-৭জন সন্ত্রাসীকে সাথে নিয়ে ছাত্র সোহাগের বাড়িতে গিয়ে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে বের করে। এরপরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোহাগের শরীরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এসময় চিৎকার শুনে সোহাগের ভাই সুমন উদ্ধার করতে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে। এতে সুমন আহত হন। সোহাগ ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হয়ে সুমন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গাবতলী মডেল থানার ওসি খায়রুল বাশার নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খুনের ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া মেডিকেলে পাঠানো হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যেই দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইত্তেফাক/জামান
