‘আমরা ত্রাণ চাই না, নদীর ভাঙন ঠিক কৈরা দেন স্যার’

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০৯:৫৬
‘আমরা ত্রাণ চাই না, নদীর ভাঙন ঠিক কৈরা দেন স্যার’ কথাটা যেন হৃদয়ে গেঁথে গেলো উপস্থিত সকলের। গত সোমবার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার চার নম্বর ফেরি ঘাটের ছাত্তার মেম্বার পাড়া ও শাহাদত মেম্বার পাড়া এলাকার সম্প্রতি পদ্মার নদী গর্ভে বিলীন হওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৮ শতাধিক পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণকালে এলাকাবাসীর কণ্ঠে ভেসে আসে ওই বাক্যটি। 
 
ওই প্রশ্ন বাক্যের উত্তরে রাজবাড়ীর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী, জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী উপস্থিত নদী ভাঙন ও বন্যার্তদের জানান, আপনাদের প্রাণের দাবি অবশ্যই পূরণ হবে। কিন্তু এর জন্য একটু সময় দিতে হবে। ১ বৎসরের মধ্যে দৌলতদিয়ার চারটি ঘাট ও ঘাট এলাকার পাড় স্থায়ী ব্যবস্থা (বাঁধ) করা হবে। সরকারের সকল প্রকার সহযোগিতা আপনাদের জন্য রয়েছে। যতদিন যাবৎ বন্যা ও নদী ভাঙন রয়েছে, ততদিন পর্যায়ক্রমে আপনাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে যাবে। খুব শিগগিরই দৌলতদিয়ার লঞ্চঘাট থেকে নদীর ভাটিতে ও উজানে প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পাড় বাঁধা হবে। তখন আর আপনাদের ভাঙন সমস্যা থাকবে না আশা করছি। এ সময় পদ্মা নদীতে বিলীন হওয়া শত-শত নারী পুরুষের মুখে যেন ঈদের আনন্দ ফুটে উঠে।
 
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ওই এলাকায় জরুরি ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন- রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেবেকা খান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো. সজীব, গোয়ালন্দ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. হাসান হাবিব, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজা শুভ, রাজবাড়ী সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম, রাজবাড়ীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার, বিআইডব্লিটিএ’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) আবু সাইদ মন্ডল, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম মন্ডল, দেবগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আতর আলী সরদার, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম মন্ডলসহ প্রমুখ। 
 
ত্রাণ বিতরণ শেষে রাজবাড়ী-১ আসনের সদস সদস্য ও জেলা প্রশাসক পদ্মার ভাঙনের মুখে পড়া চাঁদখান পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আ. মালেক এসময় উপস্থিত ছিলেন। নদী ভাঙন মানুষের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম মন্ডল জানান, পদ্মা নদী ভাঙনে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের আওতাধীন ঘাট এলাকার সম্প্রতি ভিটে মাটি ছেড়ে প্রায় শতাধিক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। 
 
ইত্তেফাক/এমআই