চট্টগ্রামে প্রাথমিকের শিক্ষক বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ!

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২০

আজহার মাহমুদ, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেমে মহানগরীতে প্রাথমিকের শিক্ষক বদলিতে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যারা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন তাদের বদলির আদেশ না দিয়ে পরে আবেদন করা অনেককে বদলীর আদেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। পরে আবেদন করা এসব শিক্ষক বদলীর জন্য শূন্য পদও আনেননি। ফলে অন্য শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত বুধবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে ৩১ জন শিক্ষককে বদলীর আদেশ দেওয়া হয়। অধিদফতরের পরিচালক (পলিসি এবং অপারেশন) খান মো. নুরুল আমিন ও সহকারী পরিচালক জালাল আহমেদ গত ২৮ মার্চ এই আদেশে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষরের প্রায় এক সপ্তাহ পর আদেশটি চট্টগ্রামে আসে। এবং বদলিকৃত শিক্ষকদের তালিকা প্রতিষ্ঠানের অধিদফতরের ওয়েবসাইটেও দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা গতকাল বিকেলে ইত্তেফাককে জানান, তিনি অফিস আদেশটির বিষয়ে শুনেছেন। তবে প্রশিক্ষণের কাজে ঢাকায় থাকায় তিনি বিস্তারিত জানেন না। তিনি যেসব শিক্ষককে শূন্য পদের জন্য সুপারিশ করেছিলেন তাদের কেউ বদলির তালিকায় আছেন কিনা সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এই আদেশকে অনৈতিক দাবি করে একাধিক শিক্ষক ও তাদের পরিবারের লোকজন ইত্তেফাককে বলেছেন, যারা অধিদফতরের সঠিক নিয়ম মেনে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শূন্য পদের সুপারিশ নিয়ে গেছে, তারা এখনো অধিদফতরের বারান্দায়, কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অন্তত ৩০ জন শিক্ষক মহাপরিচালকের চাহিদা মতো জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের শূন্য পদের সুপারিশ নিয়ে গেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র দুইজনকে আদেশের চিঠিতে বদলির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাকী ২৯ জনকে প্রভাবশালীদের তদবির এবং অর্থের বিনিময়ে অনৈতিকভাবে বদলির আদেশ দিয়েছেন অধিদফতরের কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে অনেকে আবেদন করেছেন পরে এবং শূন্য পদও নিয়ে যাননি। অথচ নিজের স্থায়ী ঠিকানায় বদলী হতে চেয়েও পারেননি কেউ কেউ।

একজন শিক্ষিকার স্বামী মোহাম্মদ আমিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমার বৃদ্ধ মা’কে নিয়ে আমি চট্টগ্রামে থাকি। আমার একমাত্র কন্যাকে নিয়ে আমার স্ত্রী গ্রামে থাকে। সে নিরাপত্তাহীনতায় আছে। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বহু অফিস ঘুরে মহাপরিচালকের নির্দেশ মত শূন্যপদ নিয়ে আসার পরও স্ত্রীর বদলি হয়নি। মহাপরিচালক এর সাথে ৫ বার দেখা করছি। তিনি বলেছেন ন্যায়ের ভিত্তিতে হবে। কিন্তু তালিকায় দেখি আমরা যারা শূন্যপদ নিশ্চিত করেছিলাম তাদের না দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে পরে আবেদন করা শিক্ষকদের বদলীর আদেশ দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এফ এম মঞ্জুর কাদির, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন ও অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদকে ফোন করা হলে তারা কেউই রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক বদলি নির্দেশিকা-২০১৮ জারি করেন। নতুন নীতিমালায় নারী শিক্ষকরা স্বামীর কর্মস্থলের পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ে বদলির সুযোগ রাখা হয়। চলতি বছরের শুরু থেকে এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেক শিক্ষক মফস্বলের বিদ্যালয়গুলো থেকে নগর এলাকায় স্বামীর কর্মস্থলে আসার চেষ্টা করেছেন।