পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সভাপতির বাসভবনে হামলা ও প্রাণ নাশের হুমকি

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৭, ২৩:১২

পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে  নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কতিপয় দুর্বত্ত পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম শাহীনের বাসভবনে হামলা করেছে ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছে। শফিকুল আলম দৈনিক ইত্তেফাকের পূর্বধলা সংবাদদাতা ও পূর্বকন্ঠ ডট কম অনলাইন প্রকাশনার প্রকাশক-সম্পাদক। গত ২২ জুলাই শনিবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সাংবাদিক শফিকুল আলম শাহীন নিজ জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রবিবার রাতে পূর্বধলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সাধারণ ডায়েরিতে তাকে হুমকি দেওয়ার জন্য উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ দিকে ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের বিচারের দাবিতে সোমবার বিকেলে পূর্বধলা প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করেছে পূর্বধলায় কর্মরত সাংবাদিকরা।

সাংবাদিক শফিকুল আলম শাহীন জানান, গত শনিবার সকালে নেত্রকোনার পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজে ছাত্রলীগের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ার হোসেন খোকন ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মন্ডল মনির নেতৃত্বে ১০/১৫জন বহিরাগত কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীর ওপর হামলা চালায়। সাংবাদিক শফিকুল আলম শাহীনের উক্ত সংবাদটি “পূর্বধলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত-৫” এই শিরোনামে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে আসে। সেই সঙ্গে “পূর্বধলা ডিগ্রী কলেজে ছাত্রলীগের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত-৫” এই শিরোনামে আরেকটি সংবাদ পূর্বকন্ঠ ডট কম অনলাইনে প্রকাশিত হয়।

এরপর ওই সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দশটার দিকে সাংবাদিকের উপজেলা সদরের স্টেশন রোডস্থ বাসায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মন্ডল মনি হামলা চালায়। তারা প্রথমে সাংবাদিক শাহীনকে ঘরের দরজা খোলার জন্য ডাক দেয়। তিনি ঘরের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে নজরুল ইসলাম মন্ডল মনির সঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ার হোসেন খোকন, ছাত্রলীগ নেতা রেজওয়ান মাসুদ, তরিকুল ইসলাম, মনোয়ার হোসেন, শেখ মাসুদ রানা, তাহের আহমেদ, মওদুদ আহমেদ সোহাগ ও শিমুলসহ ১০/১৫ জন লোক তার ঘরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। এসময় সাংবাদিকের হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি নজরুল ইসলাম মন্ডল মনি জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে একযোগে সকলেই তাকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে।

এ সময় তারা উক্ত সংবাদটি ওয়েব সাইট থেকে মুছে ফেলার জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এসময় সাংবাদিকের স্ত্রী মৌদাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহসান আরা ও তার মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী নওরিন আলম কান্নাকাটি করতে থাকলে দুর্বত্তরা সাংবাদিককে প্রাণ নাশের হুমকী দিয়ে চলে যায়।

এ ব্যাপারে পূর্বধলা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) অভিরঞ্জন দেব জানান, এ ঘটনায় সাংবাদিক শফিকুল আলম শাহীন গত রবিবার রাতে থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেছেন। সাংবাদিকের নিরাপত্তা রক্ষায় তার বাসায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু