আল-আকসা থেকে ‘ইলেক্ট্রনিক গেট’ সরিয়ে নিয়েছে ইসরাইল

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৭, ০৯:৩৫
পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র স্থান ও মুসলিমদের কাছে হারাম আল শরিফ এবং ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত আল-আকসার প্রবেশমুখ থেকে মেটাল ডিটেক্টর সরিয়ে নিয়েছে ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা পরিষদ মঙ্গলবার সকালে এই সিদ্ধান্ত নেয়।
IMG0
এর আগে, হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গণে ইসরাইলিদের নিরাপত্তাজনিত বিতর্কিত কিছু ব্যবস্থাকে ঘিরে ব্যাপক সংঘর্ষের পর এ নিয়ে উত্তেজনা চরমে ওঠে। ফলে সেখানে মেটাল ডিটেক্টরের পরিবর্তে শিথিল নজরদারি ব্যবস্থা বসানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার ঘণ্টাকয়েক আগে জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেসনভ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জেরুজালেমের পবিত্র ধর্মীয় স্থান নিয়ে দ্বন্দ্ব শিথিল না হলে তা এই প্রাচীন শহর ছাড়িয়ে আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
IMG1
উল্লেখ্য, হারাম আল-শরিফে ঢোকার মুল পথে দুজন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুকে ঘিরে মেটাল ডিটেক্টরের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়। যা ফিলিস্তিনিদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। এই পটভূমিতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিলো। তার কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার এ সঙ্কট নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠকের পরই জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত বলেন, ‘কারোই ভুল করে ভাবা উচিত হবে না যে, এটি শুধুমাত্র একটি স্থানীয় সমস্যা। যদিও এটি মাত্র কয়েকশো বর্গমিটারের মধ্যে ঘটছে, তবে এর প্রভাব পড়ছে সারাবিশ্বের কোটি-কোটি মানুষের ওপর। এর সর্বনাশা প্রভাব প্রাচীন শহরের দেয়াল ছাড়িয়ে, ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে আরো অনেকদূর যেতে পারে।
IMG2
ইসরাইলি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে গত ২১শে জুলাই, শুক্রবার পূর্ব জেরুজালেম এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে হাজার-হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নামলে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়। একইদিনে অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ইহুদি বসতিতে হামলা চালিয়ে তিনজন বেসামরিক ইসরাইলি নাগরিককে হত্যা এবং অপর একজন আহত করে একজন ফিলিস্তিনিরা। জেরুজালেমের পুরনো শহরের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণটি মুসলিমদের কাছে তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এবং ইহুদি ধর্মের সবচয়ে পবিত্র স্থান হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে পূর্ব জেরুজালেম ইসরাইলের দখলে রয়েছে। বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/সেতু