সখীপুর উপজেলার হাজী আজহার আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র পাকা ভবনটি দীর্ঘদিন আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন নির্মিত হয়নি। ফলে গাছতলায় ক্লাস ও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় দিনদিন বিদ্যালয়টি থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ে সরেজমিন গেলে ৬০ ফুট লম্বা চার কক্ষের একটি জরাজীর্ণ পাকা ভবনে ও গাছতলায় পাঠদানের চিত্র দেখা যায়।
ভবনটির দুই পাশে দুই কক্ষের দেয়াল ভেঙে পড়েছে। ভেতরে পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। একজন শিক্ষক একটি কাঁঠাল গাছের ছায়ায় বেঞ্চ ফেলে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে ক্লাস নিচ্ছেন। বিদ্যালয়ের চারপাশ ঘুরে হাজিরা খাতাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখার ও শিক্ষকদের বসার কোনো কক্ষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। উপস্থিত একমাত্র শিক্ষক মো. মোত্তালেব জানান, মোট ৯৯ জন শিক্ষার্থী থাকলেও এদিন ৪২ জন উপস্থিত রয়েছে। তিন বছর আগেই ওই ভবনটিকে উপজেলা এলজিইডির একজন প্রকৌশলী পরিত্যক্ত ঘোষণা করে গেছেন। এরপর একটি ছাপরা ঘর করা হলেও, শিক্ষার্থীরা গাছের ছায়াতেই ক্লাস করতে বেশি পছন্দ করে। তিন মাস ধরে দুই শিক্ষকের ২৭টি ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থী দিনদিন কমে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের তথ্যমতে, ২০১৪ সালে ১৮০ জন, ২০১৫ সালে ১৭৬ জন ও ২০১৬ সালে ১২০ জন, চলতি বছর কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ জন শিক্ষার্থীতে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডিএমএ ছামাদ বলেন, বিদ্যালয়ে পিয়ন নেই, ঘর নেই, প্রাক প্রাথমিকের ছবি সংবলিত বিশেষ শ্রেণিকক্ষ নেই, শিক্ষক নেই, অনেক কিছুই নেই। তিনি বলেন, বিউটি আক্তার নামের এক শিক্ষক পাঁচ মাস আগে মাতৃকালীন ছুটি নিয়েছেন। আরেক শিক্ষক ওসমান গণি ১৮ মাসের প্রশিক্ষণে গেছেন। মজিবর রহমান নামের শিক্ষক ১৩ মে অবসরে চলে গেছেন। কাউকে এ বিদ্যালয়ে নিয়োগ দিলেও অবকাঠামোর অবনতি দেখে তদবির করে চলে যায়। নতুন ভবন পেলে আবার শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে তিনি দাবি করেন।
বিদ্যালয় সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, নতুন ভবন না হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী কাউকেই ধরে রাখা যাবে না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, বিদ্যালয়টি বেশি জরাজীর্ণ। ভবন বরাদ্দে ওই বিদ্যালয় অগ্রাধিকার পাবে।
ইত্তেফাক/নূহু
