বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক একেএম সাইফুল ইসলাম সীমান্তের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ভারতের অভ্যন্তরে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে ওই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবেন না। সীমান্ত দিয়ে বৈধভাবে গরু বা অন্য কোনো ভারতীয় পণ্য নিয়ে আসতে বিজিবি কোনো বাঁধা দেবে না। তবে অবৈধভাবে কোনো বাংলাদেশিকে সীমান্ত রেখা পার হতে দেওয়া হবে না।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সচেতনতামূলক মত বিনিময় সভায় বিজিবির উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন রংপুরের কমান্ডার সাইফুল ইসলাম এসব কথা বলেন। বিজিবি-১৪ (পত্নীতলা) ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার নওগাঁর সাপাহার উপজেলা হাঁপানিয়া ক্যাম্পে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিজিবির রংপুর রিজিয়নের উপ-কমান্ডার লে. কর্নেল মাহবুবুর রহমান, ব্যুরো প্রধান লে. কর্নেল তৌফিকুল হাসান, লে. কর্নেল হাসান মোরশেদ, বিজিবি-১৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইঞ্জিনিয়ার খিজির খান, সাপাহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল আলম শাহ্, পোরশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, পোরশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ।
বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত থেকে বৈধভাবে গরু আমদানিতে প্রয়োজনে বিজিবি সহযোগিতা করবে। তবে গরু ব্যবসা করতে গিয়ে মাদক অথবা অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যেরা জিরো টলারেন্স ভূমিকা পালন করবে।’ সীমান্তে আইন-শৃক্সখলা সমুন্নত রাখতে ও চোরাচালান প্রতিরোধে সকলের সহযোগিতা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা চান তিনি।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ‘ভারত থেকে বৈধভাবে গরু আনতে সাপাহার সীমান্ত এলাকায় ঈদুল আজহার আগেই খাটাল (করিডর) করে দেওয়া হবে। তবে এই খাটাল যাতে সুশৃঙ্খলভাবে চলে এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে হবে।’
সম্প্রতি গত এক সপ্তাহে সাপাহার ও পোরশা উপজেলার দুটি সীমান্ত দিয়ে ভারতে গরু আনতে গিয়ে নয়জন বাংলাদেশি বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় মানুষদের সচেতন করতে মতবিনিময় করছে বিজিবি।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
