নীলফামারীর জলঢাকায় দাফনের এক মাস পর কবর থেকে আমিনুর রহমান (৫৫) নামে এক ব্যক্তির গলিত লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জেলার মর্গে গলিত ওই লাশের ময়নাতদন্ত না হওয়ায় লাশ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ।
আদালতের নির্দেশক্রমে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধানের উপস্থিতিতে মীরগঞ্জ ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের কবরস্থান থেকে ওই লাশ উত্তোলন করা হয়।
আমিনুর রহমানের ছেলে তহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গত ২৬ জুন আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে কীটনাশক মিশানো খাবার খাওয়ানো হয়েছে। ওই খাবারের বিষক্রিয়ায় রাতে বাবার মৃত্যু হলে পরের দিন সকালে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করেন আমার চাচাসহ পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় চাচাসহ ১৫জনকে আসামি করে গত ৯ জুলাই জলঢাকা আমলী আদালতে মামলা করেন তহিদুল ইসলাম।
জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দাফনের এক মাস পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জলঢাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কবর থেকে আমিনুর রহমানের লাশ উত্তোলন করা হয়। এ সময় মামলার বাদীসহ মৃত আমিনুর রহমানের পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিল।
মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু নীলফামারী হাসপাতাল মর্গে গলিত লাশের ময়না তদন্ত হয় না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
এখন সেটি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পঠাতে আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন। নির্দেশনা পেলে রংপুরে পাঠানো হবে। এ সময় দূর্গন্ধ ছড়ানো ওই গলিত লাশ রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে নীলফামারীর সিভিল সার্জন রণজিৎ কুমার বর্মণ বলেন, এক মাসের গলিত লাশের ময়নাতদন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে করা প্রয়োজন। এখানে আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় আমরা ওই লাশের ময়নাতদন্ত করতে পারছি না।
ইত্তেফাক/নূহু
