সাদা বাড়িতেও কালো রং তাড়া করত তাকে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সহধর্মিনী- মিশেল ওবামা। দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ফার্স্ট লেডি হয়ে বর্ণবিদ্বেষের ‘কাচের ছাদ’ হয়তো তিনি ভাঙতে পেরেছিলেন। কিন্তু হোয়াইট হাউসের সেই আট বছরেও ঘৃণা তাকে তাড়া করে বেড়াত।
চেহারা ও গায়ের রং নিয়ে বহুবার তাকে অপমানসূচক কথা শুনতে হয়েছে। রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক এমনকি সাংবাদিকদের কাছ থেকে আসা সেই সব মন্তব্য তাকে ক্ষত-বিক্ষত করলেও একবারের জন্য থেমে যাননি তিনি। ডেনভারে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা অকপটে জানালেন মিশেল রবিনসন ওবামা।
IMG0
বুধবার ‘উইমেনস ফাউন্ডেশন অফ কলোরাডো’র ৩০তম বর্ষপূর্তিতে প্রায় ৮ হাজার মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শোনালেন তিনি। জানান, ‘হিলজুতো পরা বাঁদরী’ বা ‘গোরিলা-মুখো’ এ ধরনের মন্তব্য ঘুরে বেড়াত ওই সাদা বাড়ির আনাচে-কানাচে। তার কথায়, ‘বর্ণবিদ্বেষের কাচের ছাদ ভাঙতে গিয়ে ভাঙা কাচের অসংখ্য টুকরো আমাকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। রক্ত ঝরেছে সেই সব ক্ষত থেকে। কিন্তু তারপরেও কাচের টুকরো বার করে কাজ করে গিয়েছি।’ মিশেলের দুঃখ, ‘এখনও খারাপ লাগে এটা ভাবলে যে, অনেকেই আমার কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয়ের বেশি কিছু জানতে চায় না।’
IMG1
মিশেলের মতে, ‘আমাদের মেয়েদের এভাবেই চলতে হয়। ক্ষতগুলো অনেক সময়ে এত সূক্ষ্ম হয় যে, আমরা রক্তক্ষরণ টের পাই না। কিন্তু ভিতরে-ভিতরে তো রক্ত ঝরতেই থাকে। সব থেকে বড় কথা, পড়ে গেলেও আমরা থামি না। উঠে দাঁড়িয়ে আবার চলতে শুরু করি।’ দ্য গার্ডিয়ান।
ইত্তেফাক/সেতু
