পাংশায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিত্যক্ত ঘোষণা

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৭, ০১:২১


পাংশার বাহাদুরপুর গ্রামের ড. কাজী মোতাহার হোসেন ও আমানত আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় পাঠদান চলছে টিনের ছাপড়া ঘরে। রোদে শ্রেণিকক্ষে প্রচুর গরম আর একটু বৃষ্টি হলেই বই-খাতা, জামা-কাপড় ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

উপজেলার বাহাদুরপুর ইউপির বাহাদুরপুর গ্রামে ১৯৮০ সালে ড. কাজী মোতাহার হোসেন ও আমানত আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী আছে প্রায় ১৫০ জনের মতো। শিক্ষক আছেন পাঁচজন। ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে টিনের ছাপড়া ঘরে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে পাঠদান নিতে হচ্ছে ওই বিদ্যালয়ের কোমলমতি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের।

বিদ্যালয়ের মূল ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় ছোট্ট একটি টিনের ছাপড়া ঘরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একটি কক্ষেই দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বসানো হয়। শ্রেণিকক্ষের মধ্যে রশি দিয়ে ব্লাকবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। হাত দিয়ে ধরলেই বোর্ডটি দুলতে থাকে। স্থির না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে না বোর্ডে কী লেখা হয়েছে। এছাড়াও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে বিদ্যালয় মাঠে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এদিকে শিক্ষকদের বসার কোনো স্থান না থাকায় পরিত্যক্ত ভবনের একটি কক্ষে তারা বসছেন। কিন্তু সেই কক্ষের পলেস্তরা প্রায়ই খসে পড়ছে।

প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মান্নাফ (মুন্নু) বলেন, স্কুলে একটি ভবন খুবই প্রয়োজন। টিনের ছাপড়া ঘরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বছির উদ্দিন বলেন, মূল ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর থেকে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য টিনের ছাপড়া তৈরি করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব শিঘ্রই কাজ শুরু হবে।

ইত্তেফাক/নূহু