বানারীপাড়ায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের পুরাতন কোর্ট বিল্ডিং দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ অবস্থা। উপজেলা পরিষদের দ্বিতল ভবনে কক্ষ স্বল্পতার কারণে পুরাতন কোর্ট বিল্ডিংয়ের পূর্ব পাশের কক্ষগুলো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একাডেমিক সুপারভাইজার এবং পশ্চিম পাশের কক্ষগুলো উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় ও ভিতরের দুটি কক্ষ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং পশ্চিম প্রান্তের একটি কক্ষ কৃষক প্রশিক্ষণ মিলনায়তন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ১৯৮৩ সালে এ ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই সময় উপজেলা পরিষদ থাকাকালে বিচারকার্য পরিচালনা করা হত এই কোর্ট ভবনে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে উপজেলা প্রশাসনের অতি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি, শিক্ষা ও পরিসংখ্যান দপ্তরের কার্যক্রম চলছে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় একতলা ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি ভিতরে পড়ে একাকার হয়ে অফিসিয়াল প্রয়োজনীয় কাগজ ও আসবাবপত্র ভিজে যায়। পলেস্তরা খসে পড়ে দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে ভেজা শরীরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজ করতে হয়। ওই পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনের পিছনে একটি গারদখানা রয়েছে। সেটি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বই ও কৃষি অফিসের মালামাল রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে বর্ষাকালে সেখানে বই ও সার-বীজ রাখা সম্ভব হয় না। সব মিলিয়ে ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বুধবার সকালে পলেস্তরা খসে পড়ে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আব্দুর রহমান। আকস্মিক ওই ভবনের ছাদের পলেস্তরা তার টেবিলের ওপরে খসে পড়তে দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন। দৌড়ে কক্ষের বাইরে বের হয়ে তখন তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও তার টেবিল, চেয়ার এবং টেবিলের ওপরের কাচের গ্লাস ভেঙে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান জানান, ভবনটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে লিখিতভাবে বিষয়টি ওই দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
