মাগুরার মহম্মদপুরে নদী ভাঙ্গন, বিলিন হচ্ছে ৪টি গ্রাম

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৭, ১৩:৫৯
সম্প্রতি টানা বর্ষণে মাগুরার মধুমতি নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাথে বেড়েছে নদীর ভাঙনের তীব্রতা। এতে মহম্মদপুর উপজেলার পূর্বদিকের কাশীপুর, রায়পুর, রুইজানি ও ভোলানাথপুর গ্রামে অর্ধশত বাড়িঘর ও প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।  গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ২৫টি পরিবারের অর্ধ শতাধিক ঘর-বাড়ি। ভাঙনের মুখে রয়েছে শতাধিক পরিবার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেঁড়িবাধ, কাশিপুর গোরস্থান, কাশিপুর মসজিদ, ভোলানাথপুরের ২টি পূজা মন্দির, অসংখ্য দোকান-পাটসহ হাজার হাজার একর ফসলি জমি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে বদলে যাচ্ছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মানচিত্র। এ পর্যন্তু উপজেলার ৪টি গ্রামের কমপক্ষে ৩ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে স্থায়ী ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে এ এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথেসাথে ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতংক ও হতাশা। এসব গ্রামের মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহসহ হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও বসত-বাড়ি এবছর বেশি ভাঙনের কবলে পড়েছে।
 
কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা তিলাম হোসেন জানান, নদী ভাঙ্গনে আমরা নিঃশ্ব হয়ে গেছি। এ গ্রামের অসংখ্য ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি ও গাছ পালা প্রতি নিয়ত নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে বারবার জানানোর পরও কোন সুরহা হয়নি। গত এক সপ্তাহে মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে কাশীপুর গ্রামের রোকন উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, পান্নু বিশ্বাস, বাচ্চু মোল্যা, মাজেদ মোল্লা, ওহাব মিয়া, আবু মিয়া, সাবু মিয়া, মাজেদ মেম্বর, হাসেম মোল্লা, মতিয়ার মিয়া, ভোলানাথপুর গ্রামের ২টি পূজা মন্দিরসহ খিতিশ চৌধরী ও মনিমোহন চৌধুরীর বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছে।  জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন, মোক্তার মিয়া, জয়েন উদ্দিন,  মোসলেম, হারান, বারিক মোল্যা, হানিফ মোল্যা, অলিয়ার, নওশের, মান্নান, নজির, মন্নু, নান্নু, জাফর, সাদেক মোল্যা, মোসলেম, মিজানুর, আলম, ওহাব, আয়েন উদ্দিন, জয়েন উদ্দিন, আক্কাস মোল্যা, চুন্নু মোল্যা, আনোয়ারুল হক, সবুর মিয়া, হানিফ মোল্যা, অলিয়ার, বাকী, রোকন উদ্দিন, আক্কাস মোল্যা, চুন্নু মোল্যাসহ শতাধিক পরিবারের অসংখ্য ঘরবাড়ি। নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেঁড়িবাধ, কাশীপুর গোরস্থান, কাশিপুর মসজিদকে নদীগর্ভে নিয়ে যেতে পারে। 
 
এ ব্যাপারে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী রওশন ইসলাম বলেন, খবর পেয়েছি, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। 
 
মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ জানান, নদী ভাঙন রোধে আমরা কাশিপুর এলাকায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫০ মিটার বাঁধ নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ করেছি। বাকী কাজ শেষ করতে আমরা পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করবো।
 
ইত্তেফাক/এমআই