মহম্মদপুরে নদী ভাঙনে চারটি গ্রাম বিলীনের পথে

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৭, ০৩:১৪

সম্প্রতি সময়ের টানা বর্ষণে মাগুরার মধুমতি নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাথে বেড়েছে নদীর ভাঙনের তীব্রতা। এতে মহম্মদপুর উপজেলার পূর্বদিকের কাশীপুর, রায়পুর, রুইজানি ও ভোলানাথপুর গ্রামে অর্ধশত বাড়িঘর ও প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ২৫টি পরিবারের অর্ধ-শতাধিক ঘর-বাড়ি। ভাঙনের মুখে রয়েছে শতাধিক পরিবার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ, কাশিপুর গোরস্থান, কাশিপুর মসজিদ, ভোলানাথপুরের দুটি পূজা মন্দির, অসংখ্য দোকান-পাটসহ হাজার হাজার একর ফসলি জমি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে বদলে যাচ্ছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মানচিত্র। এ পর্যন্ত উপজেলার চারটি গ্রামের কমপক্ষে তিন কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে এ এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে  দেখা গেছে, নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক ও হতাশা। এসব গ্রামের মসজিদ, মন্দির, ঈদগাসহ হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও বসত-বাড়ি এবছর বেশি ভাঙনের কবলে পড়েছে। কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা তিলাম হোসেন জানান, নদী ভাঙনে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। এ গ্রামের অসংখ্য ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি ও গাছপালা প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে বার বার জানানোর পরও কোনো সুরাহা হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন, মোক্তার মিয়া, জয়েনউদ্দিন, মোসলেম, হারান, বারিক মোল্যা, হানিফ মোল­্যা, অলিয়ার, নওশের, মান্নান, নজির, মন্নু, নান্নু, জাফর, সাদেক মোল­া, মোসলেম, মিজানুর, আলম,ওহাব, আয়েনউদ্দিন, জয়েনউদ্দিন, আক্কাস মোল­্যা, চুন্নু মোল্যা, আনোয়ারুল হক, সবুর মিয়া, হানিফ মোল্যা, অলিয়ার, বাকী, রোকনউদ্দিন, আক্কাস মোল্যা, চুন্নু মোল্যাসহ শতাধিক পরিবারের অসংখ্য ঘরবাড়ি। নদীর ভয়াবহ ভাঙন বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ, কাশীপুর গোরস্থান, কাশিপুর মসজিদকে নদীগর্ভে নিয়ে যেতে পারে। এ ব্যাপারে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী রওশন ইসলাম বলেন, খবর পেয়েছি, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ জানান, নদী ভাঙন রোধে আমরা কাশিপুর এলাকায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫০ মিটার বাঁধ নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ করেছি। বাকি কাজ শেষ করতে আমরা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করবো।

ইত্তেফাক/নূহু