কমলনগরে ৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেঘনার ভাঙন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। ভাঙনের কিনারায় রয়েছে অন্তত ১০টি বিদ্যালয়। ভাঙনকবলিত বিদ্যালয়সমূহ স্থানান্তর করতে অর্থ, জায়গা, ছাত্র-ছাত্রীসহ নানাবিধ সংকটে পড়তে হয় এলাকাবাসী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের।
ভাঙনের কিনারায় রয়েছে পশ্চিম চর লরেন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর জগবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য চর জগবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পশ্চিম চর জগবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর কালকিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালতলা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর জগবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কে আলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চর লরেন্স খাঁন পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামরুল হাছানসহ বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয় ভাঙলে ভোগান্তির আর শেষ থাকে না। জমিদাতা খুঁজে বের করতে হয়, অবকাঠামো নির্মাণের অর্থের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, যোগাড় করতে হয় নতুন করে ছাত্র-ছাত্রী। বর্তমানে যে ১০টি বিদ্যালয় ভাঙনের মুখে তার প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয় একাধিকবার ভেঙেছে।
পশ্চিম চর লরেন্স প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাফিজ উল্যা মানিক বলেন, প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে বিদ্যালয়ের দুই/তিন ফুট ডুবে যায়। সকালে এসে আমরা জোয়ারের বর্জ্য পরিষ্কার করি, অনেক সময় মরা পচা-গলা পড়ে থাকে যাতে করে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। আবার জোয়ার আসার পূর্বে বিদ্যালয় ছুটি দিতে হয়। ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি ভাঙনের পর পুনরায় এখানে স্থাপন করা হয়। তৃতীয়বারের মত কোথায় স্থাপন করব জানি না। তবে দুই ব্যক্তি জায়গা দেওয়ার কথা বলেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপকূলীয় এলাকায় সরকার তার এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি তহবিলের ব্যবস্থা রাখা এবং ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যালয় স্থানান্তর করা উচিত।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম এহছানুল হক চৌধুরী জানান, বিদ্যালয় পুনঃস্থাপনের জন্য বরাদ্দ নেই। তবে সংস্কার ও মেরামতের জন্য বরাদ্দ আসে। আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত বিদ্যালয়ে বরাদ্দ দিয়ে থাকি।
ইত্তেফাক/নূহু
