সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ, থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে। দেশে এসে যেকোনো সময় আপনার দরজায় টোকা দিতে পারেন। তার টোকায় সাড়া দিয়ে দরজা খোলার জন্য আপিন রেডি তো? এমন একটি ভিডিও নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন তিনি। এরপরই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। কিন্তু তিনি কী করতে যাচ্ছেন তা ওই ভিডিওতে খোলাসা করেননি।
৩ এপ্রিল সকাল ৭টা ২৬ মিনিটে দেওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চোখে কালো সানগ্লাস পরে মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি গ্রামের রাস্তা দিয়ে দুর্বার গতিতে ছুটে চলছেন। কিছুক্ষণ চলার পর হাজির হন এক বাড়িতে। মোটরসাইকেল থেকে নেমে মাটির দেয়ালে তৈরি বন্ধ ঘরের দরজায় টোকা দেন। কিন্তু ভেতর থেকে দরজা খোলার চিত্র না দেখানো হলেও ভিডিওটির স্ক্রিনে ভেসে উঠে, সোহেল তাজ আসছে আপনার দরজায়। আপনি রেডি তো?
ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘গ্রাম থেকে শহর, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, ইউরোপ থেকে আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া, পৃথিবীর যেই প্রান্তেই থাকেন না কেন, আপনার দরজায় টোকা পড়তে পারে।’
মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট পরেননি সোহেল তাজ। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা বিশেষ দ্রষ্টব্য ১: এ বলেছেন, ‘যদিও গ্রামের সড়কে মোটরবাইক চলাচলে মাথায় হেলমেট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই, তবুও আমি নিরাপত্তার স্বার্থে হেলমেট ব্যবহারের অনুরোধ জানাই।’ বিশেষ দ্রষ্টব্য ২: এ বলেছেন, ‘সকল ফুটেজ পেশাদার ফিল্ম ক্রু দ্বারা ‘নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে’ ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি আরো একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন তিনি। সেখানেও দেখা যায় কোনো ধনাঢ্য ব্যক্তির বাড়ির দরজায় টোকা দিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সাবেক প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।
গত ২ এপ্রিল সকাল ৭টা ৩৬ মিনিটে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘দরদরিয়া, কাপাসিয়া গ্রামের বাড়ির সামনে, ২৬ মার্চ ২০১৯। আজ থেকে ৪৮ বছর আগে আমার বাবা তাজউদ্দীন আহমদকে খুঁজতে এসে পাকহানাদার বাহিনী এ বাড়িটিতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রামবাসী পুকুর থেকে পানি এনে আগুন নেভায়। কিন্তু অর্ধেক বাড়ি আগুনে পুড়ে যায়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কথা তিনি বলেননি। সামাজিক ও সংস্কারমূলক কাজে নিজেকে যুক্ত করার কথা জানিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দায়িত্ব পান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর। ওই বছরের ৩১ মে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ২০১২ সালের ৭ জুলাই সংসদ সদস্য পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।
