পাইকগাছায় পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের রশি টানাটানির ফলে কপোতাক্ষ নদের ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফলে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন কপোতাক্ষ নদের পাড়ের মানুষ।
গত কয়েক দিনে উজানের পানির তোড়ে আগরঘাটা বাজারের আশপাশের এলাকাসহ হরিঢালী, কপিলমুনির চার গ্রামের অনেক মানুষের ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি, গাছ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন কবলিত মালথ গ্রামের মোহর মোড়ল ও বক্স মোড়ল জানান, নদের ভাঙনে বাপ-দাদার ভিটেবাড়ি হারিয়ে রাস্তার ধারে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে।
ভাঙনে উপজেলার দুই ইউনিয়নের মালথ, রামনাথপুর, দর্গামহল ও হাবিবনগর গ্রামের জজ নুর ইসলামসহ হাজারো পরিবারের শত শত বিঘার কৃষি জমি ও জনবসতি এবং সহায় সম্পদ নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজন বিভিন্ন সময় সহযোগিতার কথা বললেও তা কার্যকর হয় না।
স্থানীয় সিদ্দিকুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রশীদুজ্জামান ও ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলীর তত্ত্বাবধানে ব্যবসায়ী মহল ও এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় কার্গো পাইলিং ইট বালু ও বাঁশ বসিয়ে হুমকিতে থাকা আগরঘাটা বাজার ও পাইকগাছা- খুলনা মেইন সড়ক আপাতত রক্ষা পেয়েছে।
চেয়ারম্যান কওছার আলী ও হরিঢালীর ৯নং ওয়ার্ড সদস্য শেখ ফারুক হোসেন লাকী বলেন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোনো সাড়া মেলেনি, এমনকি ভাঙন প্রতিরোধে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দুই লাখ টাকা ও স্থানীয় এমপি ১০ টন চাল বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তারা অবিলম্বে এ ঘোষণা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা শহীদ উল্লাহ মজুমদার ভাঙন এলাকা তাদের আয়ত্তের বাইরে তবে তাদের ডিজাইন মতো সড়ক ও জনপদ বিভাগের অর্থ সহায়তায় ভাঙন মোকাবিলার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
তবেপাইকগাছা-কয়রার সংসদ সদস্য শেখ মো. নুরুল হক হজ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করায় এ বিষয়ে তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ইত্তেফাক/নূহু
