খুলনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে তৃতীয় শ্রেণির ৩৮জন শিক্ষার্থীকে প্রহারের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিজ্ঞান ক্লাস চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে পুলিশ মো. আব্দুর রশিদ নামে অর্থনীতি বিষয়ের এক শিক্ষককে আটক করেছে। কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে খালিশপুর থানার ওসি মো. নাসিম খান বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিশু শিক্ষার্থীদের মারধরের খবর পেয়ে তিনিসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ওই স্কুলে যান। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে আব্দুর রশিদ নামে এক শিক্ষককে আটক করে থানায় নেয়া হয়। অভিভাবকরা তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।
অভিভাবক মো. গোলাম নবীসহ অন্যান্যরা অভিযোগ করেন, খুলনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুপুরের টিফিনের বিষয়ে গত ২৯ জুলাই স্কুলে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৯০ শতাংশ অভিভাবক টিফিনের বিপক্ষে ছিলেন। শুধুমাত্র অধ্যক্ষ পক্ষে ছিলেন। যে কারণে সভা শেষ না করেই ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যক্ষ বেরিয়ে যান। যার জের ধরে মঙ্গলবার শিক্ষক আব্দুর রশিদ ও সাইফুল ইসলাম তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের দু'টি কক্ষে গিয়ে স্কেল এবং হাত দিয়ে বেদম প্রহার করেন। এতে মিলি, সোমা, সেতু, স্নেহা, মৌমি, ফাহমিদা ও হামিদাসহ ৩৮জন শিক্ষার্থী কমবেশি জখম হয়। কারো কারো মাথা, চোখ ও হাত ফুলে যায়।
এদিকে, দুপুর পৌঁনে ১টার দিকে স্কুল ছুটির আগ মুহূর্তে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিতে এসে তাদের কান্নাকাটি শুনতে পান। এ সময় তারা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যক্ষের কক্ষের মধ্যে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে শিক্ষক আব্দুর রশিদকে আটক করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, বাচ্চারা বেঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে দুষ্টুমি করছিল। মূলত তাদের শান্ত করতেই শিক্ষক আব্দুর রশিদ চার/পাঁচজন ছাত্রকে মারধর করেন।
স্কুল সূত্র জানায়, শিক্ষক আব্দুর রশিদ গত ১১ জুন খুলনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার চকখানপুর গ্রামের মৃত আলিম উদ্দিন সরকারের ছেলে।
ইত্তেফাক/জামান
