প্রাকৃতিক, খনিজ ও বনজ সম্পদে ভরপুর সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলা। ভাটি এলাকা হিসাবে পরিচিত হলেও উপজেলাটি পর্যটন সমৃদ্ধ। প্রান্তিক এ উপজেলার রূপ লাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে যান এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। হাওর, নদী, পাখি আর জলজ প্রাণীর উপস্থিতি মানুষকে বিমোহিত করে। শুধু তাই নয় এখানকার বালিপাথর, চুনাপাথর, মাছ ও উত্পাদিত ধান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা যাদুকাটা নদী তাহিরপুরবাসীকে দু’ভাগ করে রেখেছে। এ কারণে এই নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলজিইডির তত্ত্বাবধানে এই সেতুর কাজ আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে শুরু হবে বলে প্রকৌশলীরা জানান।
স্থানীয়রা জানান, এই নদীর উপর একটি সেতুর অভাবে এলাকাটি এখনো অবহেলিত। সেতুটি নির্মিত হলে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার সঙ্গে সহজ সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। আর মাত্র চার ঘণ্টায় জেলা সদরের লোকজন রাজধানীতে পৌঁছতে পারবে। মালামাল পরিবহনও অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। ফলে এই এলাকার অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু—মন্তব্য করে সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিদ্দিকুর রহমান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, এখন ঠিকাদার বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জের চেহারা পাল্টে যাবে। এটি আর প্রান্তিক জেলা থাকবে না। ধর্মপাশা-মধ্যনগর, মহেশখলা, টেকেরঘাট, লাউড়ের গড় এলাকাবাসী এই সড়ক যোগাযোগের আওতায় চলে আসবে।
জানা গেছে, সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করেছে এলজিইডি। দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে বিন্নাকুলি এলাকায় নির্মিতব্য সেতুটি হবে ৭৫০ মিটার লম্বা ও ১৮ মিটার প্রশস্ত। পাশাপাশি নদী তীর রক্ষা ও পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করা হবে। দরপত্র আহ্বানের খবরে তাহিরপুরসহ সুনামগঞ্জবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান জানান, এই সেতুটি হবে এলজিইডির বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু।
ইত্তেফাক/নূহু
