ফেনী পৌরসভার প্রধান প্রধান সড়ক বেহাল

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৭, ০১:৫০

ফেনী পৌরসভার সড়ক বিভাগের প্রধান প্রধান সড়কগুলো নিম্নমানের কাজ করায় চলতি বর্ষায় গাড়ির চাকার আঘাতে বড় বড় গর্ত হয়ে করুণ অবস্থায় রূপ নিয়েছে। এতে পৌরবাসী ও যানবাহন চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।

শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে সড়ক জনপদের পুরাতন  সোনাগাজী বাসস্ট্যান্ড হয়ে লালপোল, মহিপাল, সদর হাসপাতাল সড়ক ও কুমিল্লা সড়কগুলো ছয় মাস আগে নিম্নমানের পাথর বিটুমিন দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে সড়কগুলোতে বাস-ট্রাকের চাকার আঘাতে বিটুমিন ও পাথর উঠে গিয়ে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এ সকল সড়ক দিয়ে পৌরবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

অপরদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপালে আট লেইন বিশিষ্ট ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের কারণে মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী ২০-৩০ টনের বিশাল আকৃতির যানবাহনগুলো ফেনী শহরের মধ্যে দিয়ে বিশেষ করে ১৬ চাকা, ২০ চাকা ট্রলি, কার্ভাডভ্যান এবং যাত্রীবাহী ঢাকা-চট্টগ্রামগামী বাস চলাচলের কারণে সড়কগুলো এবড়োথেবড়ো হয়ে ধসে পড়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফেনীর সড়ক জনপদ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ঠিকাদাররা জানান, কর্মকর্তারা তাদের থেকে কাজের আগেই ১৫-২০% কমিশন নিয়ে ফেলেন। যার কারণে তারা নিজেদের পুশিয়ে নেওয়ার জন্য নিম্নমানের বিটুমিন ও পাথর দিয়ে সড়কগুলো পাকাকরণ করেন। আর তাই একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাগুলো থেকে বিটুমিনের প্রলেপ উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দে সৃষ্টি হচ্ছে।

অপরদিকে ফেনী পৌরসভার মহিপালের ১৬নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আলী সড়ক, ৭নং ওয়ার্ডের কলাবাগান সড়ক, একাডেমী এলাকা থেকে সদর হাসপাতাল রোড, পশ্চিম উকিলপাড়া মজুমদার সড়কগুলোর  কোনো অস্তিত্ব নেই।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী জানান, সেতু, সড়ক ও জনপদ মন্ত্রণালয় থেকে ফেনীর সড়কগুলো মেরামতের জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি  ফেনীতে উপস্থিত থেকে পৌরসভা এলাকার সড়ক ও জনপদের ভাঙা রাস্তাগুলো দ্রুত মেরামত করাবেন। এছাড়া ফেনীর ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে লালপোল ও দেয়ানগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটি চার লেইন করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চারশ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়েছেন। ওই টাকা পেলে রোড ডিভাইডারের দুই পাশে আঠার ফিট করে সড়ক বর্ধিত করা হবে এবং পুরাতন সড়কটি থেকে চার ফিট মাটি উত্তোলন করে নতুন রূপে নির্মাণ করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু