যমুনার সর্বগ্রাসী থাবায় নিশ্চিহ্ন কাজিপুরের বিস্তীর্ণ জনপদ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৭, ০১:৫১

যমুনার সর্বগ্রাসী থাকায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ।

উপজেলার মাছুয়াকান্দি গ্রামের রোকেয়া বেগমের দীর্ঘশ্বাস আর বোবা কান্না যেনো থামে না। যমুনাকে দেখিয়ে তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, ওই আমারে সর্বনাশ করেছে। বসতঘর, ফসলি জমি সবকিছু গ্রাস করেছে। তিনি গত শনিবার হারিয়েছেন তার ঘর। সহায়-সম্বল হারিয়ে তিনি আজ নিঃস্ব। অথচ এক সময় তিনি গেরস্থ ঘরের বৌ ছিলেন। যমুনার করাল গ্রাসে সব হারিয়ে ওই বৃদ্ধা এখন আশ্রয় নিয়েছেন ওয়াপদার বেড়ি বাঁধে। এমনই গৃহহারা হাজারও মানুষ।

যমুনার সর্বগ্রাসী থাবায় মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে কাজিপুর সদর, গান্ধাইল, শুভগাছা ও মাইজবাড়ী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। এছাড়া খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ ও মনসুর নগর ইউনিয়নের অনেক গ্রাম তীব্র ভাঙনের শিকার। ১৯৫৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কাজিপুরে ভাঙন প্রতিরোধে ছোট-বড় অনেক পরিকল্পনা নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১’শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সলিড স্পার অনেক বছর টিকে ছিল। কিন্তু পাঁচ-ছয় বছর আগে তীব্র ভাঙনের মুখে সেগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাজনাবাড়ীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধ গত মঙ্গলবার বিলীন হয়ে যায় যমুনা নদীগর্ভে।

বর্তমানে ছয়টি স্পটে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। নদীর পূর্ব পাড়ে ভাঙন ক্রমেই ধেয়ে আসায় আশ-পাশের লোকালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ব-পশ্চিমের তীব্র বাতাসের কারণে নদীর ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বর্ষার পানি। গত কয়েকদিনে শুভগাছা, খাসরাজবাড়ী, মনসুরনগর, কাজিপুর সদর ও চরগিরিশ এলাকার আশ-পাশের বিস্তীর্ণ জনপদ যমুনা গ্রাস করে নিয়েছে। প্রায় দুই কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধ, দোকান, একটি স্কুল, একটি মসজিদ, কয়েক’শ বসতঘর, ফসলি জমি, গাছ-গাছালির বাগান বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে পড়েছে শুভগাছা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধ।

ইত্তেফাক/নূহু