জেলার মেঘনা ও তেতুলীয়া নদীতে ভরা মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছেনা। শ্রাবণের শেষ দিকে নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরার কথা থাকলেও জেলেদের ফিরতে হচ্ছে অনেকটাই শূন্য হাতে। হয়ত দুই-একজনের জালে কিছু ইলিশ ধরা পড়লেও বাকিদের ভাগ্যে জুটছেনা কিছুই। কারো কারো ট্রলারের তেলের দাম উঠানো দায় হয়ে যাচ্ছে। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনটা হচ্ছে। কিছুদিন পরে নদীতে ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম মেম্বার জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরে আশানুরূপ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে নদীতে ইলিশ কম থাকায় এর দাম বেড়ে গেছে। ১ কেজি অথবা তার কাছাকাছি ২ থেকে ৩ হালি ইলিশ পাওয়া গেলেই জেলেদের খরচ উঠে লাভ হয়। তবে সেই ইলিশ সবার জালে ধরা দিচ্ছেনা। ভাদ্র মাসের দিকে ইলিশ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করেন।
জেলার ৭ উপজেলায় ১ লাখ ২৫ হাজার নিবন্ধিত জেলেসহ মোট প্রায় ৪ লাখ জেলে রয়েছে। রূপালী ইলিশকে ঘিরেই তাদের জীবন ও জীবিকার চাকা ঘুরছে। গত বছর জেলায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় এবার আগ্রহ অনেক বেড়ে গেছে জেলে পল্লীগুলোতে। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ইলিশ শিকারে যায় তারা। তবে এখন পর্যন্ত হতাশ এখানকার জেলেরা। কারণ পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়ায় বিভিন্ন এনজিও ও মহাজনদের কাছ থেকে নেয়া দাদনের টাকা পরিশোধের ভাবনায় রয়েছে জেলেরা।
সদর উপজেলার অন্যতম মাছের মোকাম শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল মাছ ঘাটের আড়ৎদার মো. আল-আমিন বলেন, নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ না থাকায় তাদের তেমন ব্যস্ততা নেই। ব্যাপারীদের হাঁক-ডাকও নেই আগের মতো। যাও সামান্য কিছু ইলিশ আসে তার মূল্য অত্যন্ত বেশি। সামনের বর্ষায় আরো ইলিশ ধরা পড়তে পারে বলে তিনি জানান।
সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, গত কয়েক বছর যাবত এখানে ইলিশ মৌসুমের সময়সীমা পরিবর্তন হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এমনটি হচ্ছে। তবে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রচুর ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআর
