চট্টগ্রাম নগরীতে ফের ব্যাটারিচালিত রিকশা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:৪২

চট্টগ্রামে একটি চক্রের সহায়তায় নগরীর সড়কগুলোতে ব্যাটারি চালিত রিকশার চলাচল আবারো শুরু হয়েছে। নগরীর রাস্তায় এই ধরনের রিকশা চলাচলে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে; কিন্তু নগরীর প্রধান-অপ্রধান সব কটি সড়কেই ব্যাটারি চালিত রিকশা নামিয়েছে চালকরা। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এসব অবৈধ যান রাস্তায় চলাচল করতে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যারা এই রিকশা পথে নামাচ্ছে তারা সুস্পষ্টভাবে আইন-লঙ্ঘন করছে। আর এর পেছনে নগরীর বেশ কিছু প্রভাবশালী মহলের সায় রয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরী পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নগরীর রাস্তায় ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচল অবৈধ। গত কয়েক মাসে মহানগরী পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এগুলো বন্ধ করতে দফায় দফায় অভিযান চালিয়েছে। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে থাকা ব্যাটারি চালিত রিকশার সংখ্যা ১৩শর বেশি। এসব বে-আইনী রিকশাগুলো কিভাবে ধ্বংস করা হবে এ ব্যাপারে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ মহানগরী পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পরামর্শ চেয়েছে। এই অভিযান এখনো চলছে এবং তা নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের সর্বত্র বিস্তৃত করা হবে।

চট্টগ্রাম সিএনজি অটোরিকশা অটোটেম্পো ফোর স্ট্রোক চালক-মালিক ঐক্য পরিষদের প্রেসিডেন্ট মো. আবুল কাশেম সরকার ইত্তেফাককে বলেন, নগরীর বেশ কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ব্যাটারি চালিত রিকশাগুলো আবারো নগরীর সড়কগুলোতে নামছে। পুলিশের অভিযান শুরু হলে এরা কিছুদিন রাস্তায় নামা থেকে বিরত থাকে। অভিযান শিথিল হলে কিংবা এদের থেকে যারা অনৈতিক সুবিধা পেয়ে থাকে তাদের ইশারা পেলেই আবারো নেমে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত মাস খানেক ধরে নগরীর রাস্তায় রাত ১০টার পর আড়ালে-আবডালে একটি-দুইটি ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচল করতে দেখা যেত; কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে দিনের আলোতেই এরা রাস্তায় চলাচল করছে। দুর্বল ব্রেক, রিকশার তুলনায় অত্যধিক গতি এবং অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দ্বারা এসব রিকশা চালিত হওয়ায় এগুলো নগরীর রাস্তায় ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক যানবাহন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব রিকশায় ইতোমধ্যে নগরীর বহু যাত্রী দুর্ঘটনারও শিকার হয়েছেন। তাছাড়া বিপুল সংখ্যক রিকশার ব্যাটারির চার্জ দিতে অনেক বিদ্যুত্ অপচয় হয়। এর ফলে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হয় বিদ্যুত্ গ্রাহকদের।

ইত্তেফাক/নূহু