মানিকগঞ্জের শিল্পপতি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হারুনার রশিদ খান মুন্নুর জানাযা হবে মোট ৭টি। আজ ১০টায় রাজধানীর পল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গনে প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। মরহুমের লাশ সেখানে আনা হবে সকাল ৯টায়। একঘন্টা রাখা হবে তাকে শেষবারের মত দেখার জন্য।
মরহুমের দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। বেলা ১২টায় তৃতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হবে ধামরাই উপজেলার ইসলামপুরে মুন্নু সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রাঙ্গনে। চতুর্থ জানাযা অনুষ্ঠিত হবে বেলা দেড়টায় তার নিজ নির্বাচনী এলাকা মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সৈয়দ কালুশাহ কলেজ মাঠে। মরহুমের পঞ্চম জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বেলা আড়াইটায় মানিকগঞ্জ জেলা শহরের সরকারী দেবেন্দ্র কলেজ মাঠে। ষষ্ঠ নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে বিকেল সাড়ে ৩টায় মরহুমের নিজগ্রাম হরিরামপুর উপজেলার পাটগ্রাম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সপ্তম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গনে বিকেল সাড়ে ৪টায়।
শেষ জানাযায় সর্বস্তরের মানুষের শেষবারের শ্রদ্ধা জানাবে। মরহুমের মরদেহ একঘন্টা মুন্নু মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গনে রাখার পর বিকেল সাড়ে ৫টায় তাকে সমাহিত করা হবে মুন্নু সিটিতে অবস্থিত তার পারিবারিক কবরস্থানে।
মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান, সাবেক সাংসদ ও মন্ত্রী হারুণার রশিদ খান মুন্নু বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় মানিকগঞ্জের গিলন্ড মুন্নু সিটির নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।
তাঁর মৃত্যুতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ নাঈমুর রহমান দুর্জয়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃদিক-রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রয়াত হারুনার রশিদ খান মুন্নু বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে মানিকগঞ্জ-২ আসন এবং ২০০১ সালে মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে দুটি আসনে জয়লাভ করায় তিনি দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হন।
মরহুমের জৈষ্ঠ কন্যা আফরোজা খান রিতা লন্ডনে থাকায় মরহুমের মরদেহটি হিমাগারে রাখা হয়।
গতকাল ভোরে তিনি লন্ডন থেকে দেশে ফিরলে মরহুমের জানাযার নামাজ ও দাফনের সময়সূচী ঘোষণা করা হয়।
এদিকে বয়োজৈষ্ঠ এই নেতার মৃত্যুতে জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে তিন দিনের (মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার) শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দিবসগুলিতে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন শাখা দলীয় কার্যালয়ে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ এবং জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামি শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর জেলায় মসজিদসমূহে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুন্নু ১৯৩৩ সালের ১৭ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে মানিকগঞ্জ মডেল হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, জগন্নাথ কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক (পাস) এবং পরবর্তীতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট (সিএ) কোর্স সম্পন্ন করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি স্ত্রী হুরুন নাহার, দুই কন্যা আফরোজা খান রিতা ও ফিরোজা মাহমুদ পারভীনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ইত্তেফাক/নূহু
