বৈশ্বিক উষ্ণায়ন: মারাত্মক হুমকিতে দক্ষিণ এশিয়া

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৭, ২০:৪১
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে তাপ ও আর্দ্রতার মারাত্মক হুমকিতে দক্ষিণ এশিয়ার লাখ লাখ মানুষ। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এ হিসাবে ভারত,পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মানুষেরা এর বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি কার্বন নিঃসরণ কমানো না যায়, তবে ২১০০ সাল নাগাদ মানুষের বেঁচে থাকার শেষসীমায় পৌঁছে যাবে তাপমাত্রা।
 
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতায় দক্ষিণ এশিয়ায় মানুষের বসবাস অসহনীয় হয়ে উঠবে। কেননা তাপমাত্রা  এভাবে বাড়তে থাকলে আর্দ্রতাপ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা মানুষের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরুপ।  সাধারণত দুই উপায়ে চরম আর্দ্রতা ও উষ্ণতা নির্ণয় করা হয়ে থাকে। প্রথমটি হল উষ্ণতা নির্ণায়ক থার্মোমিটার আর অপরটি হল আর্দ্রতা নির্ণায়ক থার্মোমিটার (ওয়েট ভাল্ব থার্মোমিটার)। 
 
স্বাভাবিক থার্মোমিটারে মানব শরীরের ভেতরে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এই অবস্থায় আমাদের শরীরের বাইরে অর্থাৎ ত্বকে সাধারণত ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে। ভেতরে ও বাইরে তাপমাত্রার এই পার্থক্যের কারণে শরীরের ভেতরের পরিপাকীয় তাপ ঘামের মাধ্যমে বাষ্প হয়ে বের হয়ে যায়। এখন যদি ওয়েট বাল্বে আমাদের পরিবেশের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হয়ে যায়, তাহলে শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যাওয়ার হার দ্রুত কমে যায় এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় একজন সুস্থসবল মানুষের মৃত্যু হতে পারে। 
 
পৃথিবীতে রেকর্ডকৃত ওয়েট বাল্বে তাপমাত্রার সীমা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হতে দেখা গেছে। ২০১৫ সালে ইরানে ওয়েট বাল্বে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি রেকর্ড করা হয়। ঠিক এইসময়ে ভারত ও পাকিস্তানে তীব্র দাবদাহে ৩ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়। সে কারণেই বলা হয়েছে, চরম তাপমাত্রার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষগুলো ভয়াবহ বিপদসীমার মধ্যে রয়েছে।
 
নতুন এই সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে, ওয়েট বাল্ব থার্মোমিটারে তাপমাত্রার পরিমাপ বেশি হলে তা মানবজীবনের জন্য কতটা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এ ব্যাপারে অধ্যাপক ক্রিস্টোফার স্কেহার বলেছেন,বিষয়টি সত্যিই মানব সভ্যতার জন্য অশনিসংকেত।  গবেষণা প্রতিবেদনটি সায়েন্স অ্যাডভান্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির