চট্টগ্রামে বেহাল গ্রামীণ সড়ক

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৭, ০১:২২

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রামের গ্রামীণ জনপথের অবস্থা বেহাল। বন্যার পানির সে াতে বিভিন্ন সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দিয়ে যান চলাচল এমনকি পায়ে হেঁটে চলাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অনেক কাঁচা সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্ষয়ক্ষতি অর্থবছরের শুরুতে হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য অর্থের অনুমোদন পাওয়া গেলেও বরাদ্দের টাকা হাতে পৌঁছতে কয়েক মাস সময় লাগবে। এর ফলে মেরামত কাজ বিলম্ব হচ্ছে। এলজিইডি ও সওজ বিভাগ ইতিমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থ বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে।

জানা যায়, এবার পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে জেলার সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী এলাকায় গ্রামীণ সড়ক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক সড়ক মাঝখানে গর্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে  কার্পেটিং উঠে গেছে। সংশ্লিষ্টরা জরুরি ভিত্তিতে বিচ্ছিন্ন সড়ক জোড়াতালি দিয়ে চলাচলের উপযোগী করেছে।

গ্রামীণ জনপথের রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে এলজিইডি। চট্টগ্রাম জেলার ১৪টি উপজেলায় এলজিইডির ১৪ হাজার ৭৩ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৪ কিলোমিটার পাকা ও ৯ হাজার ৯৯৯ কিলোমিটার কাঁচা। এলজিইডি চট্টগ্রাম কার্যালয় সূত্র জানায়, বন্যায় ১০ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক মেরামতের জন্য ৭৩টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। দেড় কোটি টাকার চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে চাহিদার অনুমোদন পাওয়া গেছে। তবে অর্থ বরাদ্দ পেতে ২/৩ মাস লেগে যাবে।

এ ব্যাপারে এলজিইডি চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আলমগীর ইত্তেফাককে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মেরামত বাবদ যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা দিয়ে প্রাথমিকভাবে ক্ষতি মেটানো সম্ভব হবে। এর বাইরে চলতি অর্থবছরে চট্টগ্রামের সড়ক মেরামতের জন্য ৩৫ কোটি টাকা অনুমোদন পাওয়া গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সকল সড়ক মেরামতে সমস্যা হবে না।’

বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, বন্যায় উপজেলার ৫টি সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পুকুরিয়া-চানপুর সড়ক ও সাধনপুর এলাকার আশপাশের বিভিন্ন সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা অনুমোদন মিলেছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলায়। বিভিন্ন সড়ক ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে। উপজেলা প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে প্রায় ১৮টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হালদা নদীর ভাঙনে ১০০ মিটার সড়ক ভেঙে গেছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী দিদারুল আলম জানান, ১২৪টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ও কার্পেটিং উঠে গেছে।

এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও আনোয়ারার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, সম্প্রতি পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে তাদের ১২০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামতের জন্য আমরা বরাদ্দ চেয়েছি। আশ্বাস মিলেছে। তবে এখনো টাকা পৌঁছেনি।

ইত্তেফাক/নূহু