'বাড়িওয়ালা কয় মাস যাবৎ বেতন দিচ্ছে না, শুক্রবার বেতন নিয়ে বাড়ি আসতে চেয়েছিল লাইলী। এবার বাড়ি এসে আমার সঙ্গে কুরবানি ঈদ করতে চেয়েছিল।' মেয়ের মৃত্যুর খবরে এভাবেই বিলাপ করে কাঁদছেন রাজধানীর বনশ্রী জি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার হওয়া গৃহকর্মী লাইলীর (২৬) মা।
নিহত গৃহকর্মীর লাইলীর গ্রামের বাড়ী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার কালিরহাট বাজার সংলগ্ন সমম্বয় পাড়ায়। মেয়ের মৃত্যু খবর তিনি টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পারেন শুক্রবার বিকেলে। এরপর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন গৃহকর্মী লাইলীর বাবা নজরুল ইসলাম। মেয়ের মৃত্যু খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা আলেয়া বেগমসহ প্রতিবেশীরাও।
কান্না জড়িত কন্ঠে আলেয়া বেগম বলেন, মনেহয়, ওই বাড়িওয়ালা আমার মেয়েকে মেরেছে। এখন ওর দুই অবুঝ শিশুর ভাগ্যে কি হবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না!'
আলেয়া বেগম আরো জানান, বৃহস্পতিবার রাতে লাইলী তার বড় বোন লাভলী বেগমকে ফোনে বলছেন যে, লাইলী কয়েক মাসের বকেয়া বেতন নিয়ে বাড়ি ফিরে আসবে। গত কয়েক মাস থেকে বাড়িওয়ালা তাকে বেতন-ভাতা দিচ্ছে না। এ জন্য তার নিজের বাসা ভাড়া বাকি পড়ে গেছে। অনেক কষ্টে ঢাকা শহরে ধার-দেনা করে তাকে চলতে হচ্ছিল।
শুক্রবার সে (লাইলী) বকেয়া বেতন নেওয়ার জন্য ওই বাড়িতে গিয়েছিল বলে দাবি করেন লাইলীর মা আলেয়া বেগম।
পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, দশ বছর আগে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মধ্যকাশিপুর গ্রামে নজরুল হকের সঙ্গে বিয়ে হয় লাইলীর। তাদের এক মেয়ে মরিয়ম (৫)ও এক ছেলে আতিকুর রহমান(৩) রয়েছে। দেড় বছর আগে লাইলীর স্বামী নজরুর হক কাজের সন্ধানে ভারতে চলে যান। যাওয়ার সময় তিনি ভারতীয় বিএসএফের কাছে সীমান্তে ধরা পড়েন। বর্তমানে তিনি দেড় বছর ধরে ভারতের কোবিহার জেলার কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
এদিকে, অভাবের তাড়নায় গত বছর তার ননদ জাহানারার মাধ্যমে দুই সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় কাজ করতে যান লাইলী। সর্বশেষ গত সাত মাস আগে বাড়িতে ফিরেছিলেন তিনি। এবার কোরবানি ঈদে পরিবারের সঙ্গে করার কথা থাকলেও তা আর ভাগ্যে জুটলো না এই গৃহকর্মীর। তার অকাল মৃত্যুতে তার অবুঝ সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে আশঙ্কায় পড়েছে পরিবার।
৪ আগস্ট ঢাকার বনশ্রী জি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়ি থেকে লাইলী (২৬) নামের এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
ইত্তেফাক/কেকে
