বায়োপসির জন্য নমুনা সংগ্রহ, আইসিইউতে ভালো আছে মুক্তামনি

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৭, ০৯:৫৮
 
দ্বিতীয়বার অপারেশনের পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে মুক্তামনিকে। সেখানে ভালো আছে সে। বায়োপসির জন্য তার হাত থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের পর মুক্তামনির অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়েছিল। তবে সে এখন ভালো আছে।’ এর আগে দুপুরে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. হোসেন ইমাম জানান, সকালে অপারেশন শেষে আইসিইউতে নেওয়ার পর থেকেই তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। রক্তক্ষরণ বন্ধে তাকে দ্বিতীয়বার ওটিতে নেওয়া হয়। ওই সময় মুক্তামনির রক্তের প্রয়োজন বলেও জানিয়েছিলেন এই চিকিৎসক। তবে দ্বিতীয়বার অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়।
 
অস্ত্রোপচারের পর কোনো ঝুঁকি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে অপর চিকিত্সক ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আর রক্তক্ষরণের আশঙ্কা নেই।’ আইসিইউতে কেন নেওয়া হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেবিনে নিলে মানুষের ভিড় ঠেকানো যেতো না। সে কারণেই আইসিইউতে রাখা হয়েছে। এছাড়া আইসিইউ সব সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণে থাকে।’
 
গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মুক্তামনির অস্ত্রোপচার শুরু হয়। এর আগে সকাল ৮টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার করতে সময় লাগে ৪০ মিনিট। এ সময় বায়োপসির জন্য তার হাত থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়। অপারেশনের পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের প্রধান ডা. মোজাফফর আহমেদের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল। 
 
মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন গতকাল বিকেলে বলেন, ‘মেয়ে এখন ভালো আছে। হাত থেকে রক্ত পড়া থেমেছে। আপনারা সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’ এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল, মুক্তামনির ডান হাত অক্ষত রেখেই যাতে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়, চিকিত্সকেরা প্রথমে সে চেষ্টা করবেন। তবে তা সম্ভব না হলে হাত কেটে হলেও অস্ত্রোপচার করতে হবে। কেননা অস্ত্রোপচার না করলে তার মৃত্যুঝুঁকি আছে। মুক্তামনির বাবা-মা মেয়ের হাত কেটে ফেলতে হলেও অস্ত্রোপচারে সম্মতি দিয়েছেন।
 
সাতক্ষীরায় জন্মের দেড় বছর পর থেকে মুক্তামনির ডান হাতের সমস্যা শুরু। প্রথমে হাতে টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তার ডান হাতটি ফুলে অনেকটা কোলবালিশের মতো হয়ে যায়। সে বিছানাবন্দী হয়ে পড়ে। মুক্তামনির রোগ নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। গত ১১ জুলাই মুক্তামনিকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামনির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন।
 
ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তির পর প্রাথমিকভাবে চিকিত্সকরা চারটি রোগের কথা ধারণা করলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে, লিমফেটিক ম্যালফরমেশন রোগে ভুগছে মুক্তামনি। এটি একটি জন্মগত রোগ (কনজিনেটাল ডিজিস)। এর বিশেষত্ব হচ্ছে, জন্মের পরপরই কিছু ক্ষেত্রে এর প্রকাশ পায় কারো কারো ক্ষেত্রে, কারো কারো ক্ষেত্রে পায় না। তবে মুক্তামনি এতদিন অবহেলা আর অপচিকিত্সার শিকার হয়েছে বলে পরিবার ও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে।