নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঋণের কিস্তির টাকা দিতে না পারায় দরিদ্র এক নারীর ছয়টি ছাগল নিয়ে গেছে এনজিও কর্মীরা। ছাগল ফেরত না পাওয়ায় সৈয়দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে ওই নারী।
অভিযোগে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর বাজারে সেলফ হেলফ অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন প্রোগ্রাম (শার্প) নামের একটি এনজিওর শাখা অফিস রয়েছে। ওই অফিস থেকে বকসাপাড়া গ্রামের মজিয়া খাতুন গত ৮ জানুয়ারি ১৪ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে গ্রহণ করে প্রতিবেশী আইয়ুব আলীর স্ত্রী নিলুফাকে ধার দেন। এর পর থেকে নিলুফা আক্তার প্রতি সপ্তাহের সোমবার ৩৫০ টাকা হারে কিস্তি পরিশোধ করেন। নিলুফা আক্তার ওই এনজিওর সদস্য না হলেও এনজিও কর্মীরা তার কাছ থেকেই কিস্তি আদায় করছিলেন। কিন্ত নিলুফার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় তিনি গত সোমবার কিস্তি দিতে পারেননি। ফলে এনজিও কর্মীরা নিলুফা ও তার স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসেন।
এদিকে, সোমবার আসার আগেই আজ রবিবার নিলুফা আক্তারের বাড়িতে হাজির হন এনজিওর শাখা ম্যানেজারসহ কর্মী নাজমুন নাহার (নাজমিন), ডলিসহ ১০ জন। তারা নিলুফা আক্তারকে কিস্তির টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে নিলুফা ও তার স্বামী আইয়ুবকে তারা অকথ্য গালিগালাজ করেন এবং উঠানে বেঁধে রাখা ৬টি ছাগল ও হাড়ি-পাতিল নিয়ে যায়। ছাগল ও হাড়ি-পাতিল ফেরত না পাওয়ায় শার্প এনজিওর কামারপুকুর শাখা ম্যানেজার, ২ কর্মীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এ বিষয়ে শার্পের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব-উল-আলম জানান, এ অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তদন্ত করে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান বলেন, ‘নিলুফা ও তার স্বামী আইয়ুব আমার কাছে মৌখিক অভিযোগ করলে আমি বিষয়টি জানার জন্য এনজিও কর্মীকে মোবাইল করি। কিন্ত তারা আমার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে।’
সৈয়দপুর উপজেলার নবাগত নির্বাহী অফিসার বজলুর রশীদ বলেন, ‘এনজিও কর্মীদের হাতে হতদরিদ্র কেউ নির্যাতনের শিকার হবেন এটা মেনে নেয়া যায় না। আমি বিষয়টি জানার পর ওই এনজিওর নির্বাহী পরিচালককে তলব করেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এখনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ইত্তেফাক/ইউবি
