ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত শনিবার (২৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার নেপথ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডীন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রহমত উল্লাহ। ইত্তেফাক অনলাইনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ডাকসু নির্বাচনের দাবি যৌক্তিক দাবি। আমরা এই দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু বিশেষ দিনে এই দাবির নেপথ্যের কারণ কি?
অধ্যাপক রহমত উল্লাহ বলেন, ডাকসু না থাকলে ভালো ছাত্র নেতৃত্ব তৈরি হয় না। এটা থেকে জাতি ভবিষ্যত নেতা পায়। কিন্তু বিশেষ অনুষ্ঠানে এমন দাবি তোলা এবং দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘাত-সংঘর্ষে জড়ানো হলে দাবি উপেক্ষিত হয়।
IMG0
আইন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, ডাকসু নির্বাচন ছাত্ররা করবে এবং ছাত্ররাই তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে। সকল ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে এটা হবে। শুধু বাম ছাত্র সংগঠন চাইলে ডাকসু নির্বাচন হবে না।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য যদি আগামী এক মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দিতে চান তাহলে ছাত্র সংগঠনগুলোই বলবে তারা প্রস্তুত নয়। তাই ডাকসু নির্বাচনের জন্য ছাত্র সংগঠনগুলোকে আগে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
আইন অনুষদের ডীন বলেন, এই অপ্রীতিকর ঘটনায় বিভিন্ন মহল বিভিন্নভাবে ব্যাখা করছে। ফলে ডাকসুর দাবিটি জটিল হয়ে যাচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। স্বার্থের সংঘাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার অধিকার কারও নেই। এসময় তিনি বলেন ডাকসুর দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করা কারও কাম্য নয়।
আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে চেয়েছিলো এর জবাবে রহমত উল্লাহ বলেন, সেদিন যারা দাবি দাওয়া নিয়ে আসছিলো তাদের সেটা পূর্বকর্মসূচির মধ্যে ছিলো না। গেট তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিলো। সুতরাং আমি কোনোভাবেই বলবো না তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতো।
IMG1
সিনেট ভবনের সামনে দাঁড়ালে সমস্যা কোথায় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিনেট ভবনের সামনে দাঁড়িয়েই কেনো আমার প্রতিবাদ করতে হবে? আমরা কি সংসদ ভবন ঘেরাও করে সাংসদদের কাছে আমাদের দাবি উত্থাপন করি? আজকে বাংলাদেশ মিডিয়ার যুগে বসবাস করছে। যেকোনো প্রান্তে কিছু হলেই মিডিয়ায় চলে আসে।
শিক্ষকদের সঙ্গে হাতাহাতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সমাজের মূল্যবোধকে উপেক্ষা করতে পারি না। এটা অত্যান্ত হতাশার উদ্বেগের খবর। বাংলাদেশ একটি রক্ষণশীল সমাজ। আমরা আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যখন আমি সমাজের মূল্যবোধকে অশ্রদ্ধা করি তখন নিজেকেই আমি প্রশ্ন করি আমি কে?
শিক্ষকরাই আগে ধাক্কা দিছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কখনেই এটি বিশ্বাস করি না। শিক্ষক ছাত্র একই পথের পথিক। একজন আরেকজনের পরিপূরক। এই ঘটনায় ছাত্রদেরকে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হচ্ছে। এটি কখনোই কাঙ্খিত নয়। এসময় তিনি বলেন, যদি কোনো কিছু ভুলও হয়ে থাকে তাহলে চলো এটা সমাধান করি। তারপরও পরস্পপর ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানো যাবে না।
ইত্তেফাক/ রেজা
